দেশজুড়ে একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন বন্ধ ও সক্ষমতার ঘাটতির কারণে বিদ্যুৎ সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। এর ফলে গ্রীষ্মের চাহিদার চাপ সামাল দিতে না পেরে লোডশেডিং ২ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেছে, যা জনজীবন, শিল্পকারখানা ও কৃষিখাতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ-এর তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (২০ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১টায় ১৫ হাজার ২০০ মেগাওয়াট সম্ভাব্য চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন ছিল মাত্র ১৩ হাজার ১৯৮ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি দাঁড়ায় ২ হাজার মেগাওয়াটেরও বেশি। উৎপাদন ব্যবস্থায় এই ঘাটতি বিদ্যুৎ সরবরাহে চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং পিক সময়ে প্রয়োজনীয় উৎপাদন ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।
জেলাভেদে এই সংকট ভিন্নভাবে প্রকাশ পাচ্ছে। গাজীপুর-এ ৪৮৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ৩৪৯ মেগাওয়াট, অর্থাৎ প্রায় ২৮ শতাংশ লোডশেডিং। সাভার-এ পরিস্থিতি আরও গুরুতর; ৩১৯ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ১৭৫ মেগাওয়াটে নেমে আসায় লোডশেডিং ৪৫ শতাংশ ছাড়িয়েছে।
সিলেট অঞ্চলে গড়ে ৪০ শতাংশ বিদ্যুৎ ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। প্রায় ৪৭৭ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ অনেক কম থাকায় নিয়মিত বিভ্রাট চলছে। একইভাবে খুলনা-তে ৬৫০-৬৭০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ মিলছে ৫৪০-৫৭০ মেগাওয়াট, ফলে ১১০ মেগাওয়াট পর্যন্ত ঘাটতি তৈরি হচ্ছে এবং গ্রামীণ এলাকায় তা আরও বাড়ছে।
অন্যদিকে বরিশাল অঞ্চলে ১৬০-১৭০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাচ্ছে, যার ফলে নিয়মিত বিরতিতে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
সার্বিকভাবে বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকা, জ্বালানি সংকট এবং উৎপাদন সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা মিলিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় এক ধরনের কাঠামোগত চাপ তৈরি হয়েছে। এর ফলে চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান আরও বাড়ছে এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে লোডশেডিংয়ের তীব্রতা ভিন্ন ভিন্ন মাত্রায় দৃশ্যমান হয়ে উঠছে।
লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত কৃষিখাত, ব্যাহত হচ্ছে বোরো চাষ
২ হাজার মেগাওয়াট ছাড়ালো লোডশেডিং , উৎপাদনে ধস
সরকারের সিদ্ধান্তের আগে বাস ভাড়া বৃদ্ধি না করার নির্দেশনা