লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত কৃষিখাত, ব্যাহত হচ্ছে বোরো চাষ

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:২২ পিএম

গ্রীষ্মের ক্রমবর্ধমান চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ উৎপাদন পিছিয়ে পড়ায় গতকাল ভোরে দেশজুড়ে লোডশেডিং ২ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়। এতে জনজীবনের পাশাপাশি শিল্পকারখানা ও কৃষিখাতে স্পষ্ট অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, আর গ্রামাঞ্চলে দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ বিভ্রাট পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, রাত ১টায় প্রায় ১৫ হাজার ২০০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন ছিল মাত্র ১৩ হাজার ১৯৮ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি দাঁড়ায় ২ হাজার মেগাওয়াটেরও বেশি। বিদ্যুৎব্যবস্থা এখন চরম চাপের মধ্যে রয়েছে এবং পিক সময়ে প্রয়োজনীয় উৎপাদন ধরে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে লোডশেডিংয়ের চিত্র একেক রকম হলেও সংকট সর্বত্রই তীব্র। গাজীপুরে প্রায় ২৮ শতাংশ, সাভারে ৪৫ শতাংশের বেশি এবং সিলেটে গড়ে ৪০ শতাংশ লোডশেডিং হচ্ছে। অনেক এলাকায় দিনে একাধিকবার ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না; গ্রামাঞ্চলে এই সময়সীমা ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত পৌঁছেছে।

এই বিদ্যুৎ সংকটের অভিঘাত ইতোমধ্যেই উৎপাদন খাতে দৃশ্যমান। কারখানাগুলোতে উৎপাদন কমে যাচ্ছে, ব্যবসার খরচ বাড়ছে এবং অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে সরবরাহ ব্যবস্থায়। একই সঙ্গে চলমান বোরো মৌসুমে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

বোরো মৌসুমের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সেচ পাম্প চালাতে না পারায় মাঠ পর্যায়ে সমস্যার তীব্রতা বাড়ছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া অঞ্চলের কৃষকেরা জানিয়েছেন, ঘন ঘন বিদ্যুৎ না থাকায় সেচ পাম্প সচল রাখা যাচ্ছে না। অনেক এলাকায় দিনে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না। নবীনগরের কৃষক আব্দুল আজিজের ভাষায়, অনিয়মিত বিদ্যুতের কারণে জমিতে সময়মতো পানি দেওয়া যাচ্ছে না, যা ফসলের স্বাভাবিক বৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করছে।

একই চিত্র দেখা যাচ্ছে খুলনা অঞ্চলেও। কৃষকেরা বলছেন, প্রয়োজনের সময়ই বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না, ফলে সেচ কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে মৌসুম শেষে ধানের উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা জোরালো হচ্ছে।

AS
আরও পড়ুন