বিদ্রোহীদের হামলায় মালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিহত

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৪৬ পিএম

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালিতে উগ্রপন্থী গোষ্ঠী ও বিদ্রোহী যোদ্ধাদের একযোগে চালানো ভয়াবহ হামলায় দেশটির অত্যন্ত প্রভাবশালী নেতা ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল সাদিও কামারা নিহত হয়েছেন। রোববার (২৬ এপ্রিল) ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিসহ দেশটির একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার দেশটির ‘কাটি’ শহরে সাদিও কামারার বাসভবন লক্ষ্য করে একটি আত্মঘাতী গাড়ি বোমা হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা আল-কায়েদার সহযোগী সংগঠন ‘জামাত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল-মুসলিমিন’ (জেএমআইএন) এবং তুয়ারেগ বিদ্রোহী গোষ্ঠী ‘আজাওয়াদ লিবারেশন ফ্রন্ট’ (এফএলএ)-এর সদস্য বলে জানা গেছে। রাজধানী বামাকো থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত দুর্গসম সুরক্ষিত এই সামরিক শহরেই প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট বসবাস করতেন।

জেনারেল সাদিও কামারা মালির ২০২০ এবং ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের অন্যতম মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন। ক্ষমতাসীন সামরিক জান্তার মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি। আল-জাজিরার বিশ্লেষক নিকোলাস হক জানিয়েছেন, কামারাকে মালির পরবর্তী শীর্ষ নেতা হিসেবে দেখা হতো। তাঁর এই মৃত্যু মালির সশস্ত্র বাহিনীর জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি এবং বড় ধরণের মনস্তাত্ত্বিক ধাক্কা।

হামলার সময় মালির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আসিমি গোইতা কাটি শহরেই অবস্থান করছিলেন। তবে হামলা শুরু হওয়ার সাথে সাথে তাকে একটি বিশেষ সুরক্ষিত স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি নিরাপদ আছেন এবং সামরিক বাহিনীর কমান্ড বজায় রেখেছেন বলে জানিয়েছে সরকারি সূত্র।

বিদ্রোহীরা কেবল কাটি নয়, বরং রাজধানী বামাকো, উত্তরের গাও ও কিদাল এবং মধ্যাঞ্চলীয় শহর সেভারেসহ একাধিক স্থানে একযোগে হামলা চালিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, কিদালে রোববারও বিকট বিস্ফোরণ ও ভারী অস্ত্রের গোলাগুলি চলছে। বিশ্লেষক বুলামা বুকার্তির মতে, আগে যেসব বিদ্রোহী গোষ্ঠী একে অপরের বিরুদ্ধে লড়ত, তারা এখন রাষ্ট্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, যা মালির নিরাপত্তার জন্য এক ভয়াবহ সংকেত।

মালির এই রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আফ্রিকান ইউনিয়ন (এইউ), ওআইসি (OIC)-র মহাসচিব এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব আফ্রিকান অ্যাফেয়ার্স। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মালিতে শান্তি বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছে। সূত্র: এএফপি, আল জাজিরা।

FJ
আরও পড়ুন