ইরানকে ঘিরে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক ও সামরিক অচলাবস্থা কাটাতে নতুন রণকৌশল হাতে নিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তেহরানের ওপর সরাসরি ‘স্বল্পমেয়াদি কিন্তু শক্তিশালী’ সামরিক হামলার একটি বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রস্তুত করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। মূলত পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ এড়িয়ে তীব্র চাপের মুখে ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরতে বাধ্য করাই এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ এবং ‘বিবিসি’-র প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিশেষ সামরিক অভিযানে ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি অবকাঠামো, গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি, কমান্ড সেন্টার এবং আঞ্চলিক মিলিশিয়া নেটওয়ার্কগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। এছাড়া হরমুজ প্রণালির একটি নির্দিষ্ট অংশ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় সচল করার লক্ষ্যে সীমিত আকারে স্থলবাহিনীর অংশগ্রহণের বিষয়টিও পেন্টাগনের টেবিলে রয়েছে।
ট্রাম্পের অবস্থান ও নৌ অবরোধপেন্টাগন এই ‘হাই-ইমপ্যাক্ট’ পরিকল্পনা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে উপস্থাপন করলেও তিনি এখনো এতে চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি। ট্রাম্প আপাতত ইরানের ওপর নৌ অবরোধ এবং কঠোর অর্থনৈতিক চাপ বজায় রাখার পক্ষে। ট্রাম্পের মতে, সামরিক হামলার চেয়েও বর্তমানে নৌ অবরোধ ইরানের জন্য ‘বোমার চেয়েও বেশি কার্যকর’ প্রমাণিত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র যখন ইরানে নতুন হামলার কথা বিবেচনা করছে, ঠিক তখন হরমুজ প্রণালি সংকটের জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দামে নজিরবিহীন বিস্ফোরণ ঘটেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১২৬ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর সর্বোচ্চ। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিভিন্ন দেশের খুচরা জ্বালানি বাজারে।
ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, সেন্টকম পেন্টাগনের কাছে ‘ডার্ক ঈগল’ নামের সর্বাধুনিক হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনের জন্য জরুরি আবেদন করেছে। ১ হাজার ৭২৫ মাইল পাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্র শব্দের চেয়ে ৫ গুণ বেশি দ্রুতগতিতে (ম্যাক ৫) উড়ে গিয়ে ইরানের ভূগর্ভস্থ শক্তিশালী বাঙ্কার, কমান্ড সেন্টার বা ক্ষেপণাস্ত্র লাঞ্চার নিমিষেই ধ্বংস করতে সক্ষম। ২০২৫ সালে কার্যকর হওয়া এই প্রযুক্তির অস্ত্রটি এখন ইরানের বিরুদ্ধে তুরুপের তাস হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন।
সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ‘স্বল্পমেয়াদি কিন্তু শক্তিশালী’ হামলার এই কৌশল মূলত একটি সতর্কবার্তা। অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের নেতৃত্বে এই পরিকল্পনাটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে বড় ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধ এড়িয়ে দ্রুত তেহরানকে বড় ধরণের ক্ষতি সাধন করে নতজানু করা যায়।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে সামরিক সরঞ্জামবাহী কার্গো ফ্লাইটের সংখ্যা গত কয়েক দিনে নাটকীয়ভাবে বেড়েছে, যা সম্ভাব্য আক্রমণের আগাম প্রস্তুতিরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
নাগালের বাইরে ইরানি লাঞ্চার! হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র চায় মার্কিন বাহিনী