সৌদি আরব চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে বড় ধরনের বাজেট ঘাটতির মুখে পড়েছে, যেখানে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৩.৫ বিলিয়ন ডলার, যা দেশটির অর্থনৈতিক কাঠামোয় এক উল্লেখযোগ্য চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সৌদি অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১২৫.৭ বিলিয়ন রিয়ালে, যেখানে একই সময়ে সরকারি ব্যয় ও রাজস্ব প্রবাহের মধ্যে বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা দেখা গেছে।
সরকারি ব্যয় এক বছরের ব্যবধানে ২০ শতাংশ বেড়ে ৩৮৬.৭ বিলিয়ন রিয়ালে পৌঁছেছে, অন্যদিকে তেলের রাজস্ব ৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১৪৪.৭ বিলিয়ন রিয়াল, যা সামগ্রিক আয়ের ওপর সরাসরি চাপ সৃষ্টি করেছে।
এই পরিস্থিতির পেছনে আংশিকভাবে ভূমিকা রেখেছে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌপরিবহন কার্যক্রমে বিঘ্ন, যা তেল সরবরাহ ও বৈশ্বিক বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে। ব্যয়ের খাতে সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি দেখা গেছে অর্থনৈতিক সম্পদ খাতে, যা ৫২ শতাংশ বেড়েছে। সাধারণ ব্যয় ৪৬ শতাংশ এবং সামরিক, অবকাঠামো ও পরিবহন খাতে প্রায় ২৬ শতাংশ করে ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে তেলবহির্ভূত আয় সামান্য ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও তা মোট রাজস্ব ঘাটতি পূরণে যথেষ্ট হয়নি, ফলে আর্থিক ভারসাম্য আরও নাজুক হয়ে পড়েছে।
বিশ্বের শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে সৌদি আরবের রাজস্বের বড় অংশ আসে তেল বিক্রি থেকে, যা সাম্প্রতিক সময়ে পরিবহন ও সরবরাহ সংকটের কারণে চাপের মুখে পড়েছে।
এদিকে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার প্রভাব বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা তৈরি করেছে। এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের সাময়িক স্থগিতাদেশ পরিস্থিতিকে কিছুটা অনিশ্চিত অবস্থায় রেখেছে। সূত্র: আলজাজিরা
হরমুজ আগে পারমাণবিক ইস্যু পরে, ইরানের শর্ত মেনে নিলো যুক্তরাষ্ট্র?
ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ অবসানের ইঙ্গিতে তেলের বড় দরপতন