ইরানকে ‘ফাইবার-অপটিক’ ড্রোন দিচ্ছে রাশিয়া, গোপন নথি ফাঁস

আপডেট : ০৮ মে ২০২৬, ০৬:২৩ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে মার্কিন বাহিনীকে চূড়ান্ত বিপাকে ফেলতে ইরানকে এক ভয়াবহ ও ‘অজেয়’ ড্রোন প্রযুক্তি দেওয়ার গোপন পরিকল্পনা করছে রাশিয়া। ব্রিটিশ প্রভাবশালী সাময়িকী 'দ্য ইকোনমিস্ট'-এর হাতে আসা রাশিয়ার সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা জিআরইউ-এর একটি গোপন নথিতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

নথি অনুযায়ী, রাশিয়ার সামরিক গোয়েন্দা সংস্থাটি ইরানকে প্রায় ৫ হাজার স্বল্পপাল্লার ‘ফাইবার-অপটিক’ ড্রোন এবং বেশ কিছু অত্যাধুনিক দীর্ঘপাল্লার স্যাটেলাইট-চালিত ড্রোন সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে। মূলত ইরানের ওপর মার্কিন ও ইসরায়েলি আক্রমণের পাল্টা জবাব হিসেবে তেহরানের সামরিক শক্তি বহুগুণ বাড়াতেই মস্কোর এই বিশেষ উদ্যোগ।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়ার এই ‘ফাইবার-অপটিক’  ড্রোনগুলো বর্তমানে যুদ্ধক্ষেত্রে এক মূর্তিমান আতঙ্ক। প্রথাগত ড্রোন রেডিও সিগন্যালের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়, যা জ্যামিং প্রযুক্তির মাধ্যমে মাঝপথে আটকে দেওয়া সম্ভব। কিন্তু এই ড্রোনগুলো চুলের মতো চিকন তারের (ফাইবার অপটিক) মাধ্যমে সরাসরি অপারেটরের সাথে যুক্ত থাকে। ফলে এগুলোকে জ্যাম করা বা সিগন্যাল হ্যাক করা প্রায় অসম্ভব। ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ বাহিনী এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ব্যাপক সফলতা পেয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কেবল ড্রোন দেওয়াই নয়, এগুলো চালানোর জন্য এক বিশাল প্রশিক্ষিত বাহিনী গড়ার ছক কষেছে ক্রেমলিন। রাশিয়ায় অধ্যয়নরত প্রায় ১০ হাজার ইরানি শিক্ষার্থী এবং সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের অনুগত আলাউইত সম্প্রদায়ের যোদ্ধাদের বাছাই করে ড্রোন অপারেটর হিসেবে উচ্চতর প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে এই নথিতে।

যদিও এই ড্রোনগুলো সরাসরি ইরানে পৌঁছেছে কি না তা এখনো নিশ্চিত নয়, তবে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর হাতে সম্প্রতি এই ধরণের প্রযুক্তির উপস্থিতি মস্কো-তেহরান সামরিক আতাঁতের দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর যে হামলার হুমকি দিয়ে রেখেছেন, তার বিপরীতে এই ‘জ্যামিং-প্রুফ’ ড্রোন হবে তেহরানের প্রধান রক্ষাকবচ। যা মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা মার্কিন নৌবহর ও সেনাসদস্যদের জন্য চরম নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করবে। সূত্র: এনডিটিভি ও দ্য ইকোনমিস্ট

FJ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত