মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্ট

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এখনো যথেষ্ট শক্তিশালী

আপডেট : ১৩ মে ২০২৬, ০৯:৫৮ পিএম

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সাম্প্রতিক এক গোপন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এখনো যথেষ্ট শক্তিশালী এবং দেশটির সামরিক অবকাঠামো প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত পুনর্গঠিত হচ্ছে। এই তথ্য মার্কিন প্রশাসনের পূর্ববর্তী প্রকাশ্য দাবিগুলোর ঠিক বিপরীত চিত্র তুলে ধরছে।

গোপন ওই নথির তথ্য অনুযায়ী, ইরান তাদের অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ও ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলোর ওপর পুনরায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে।প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরান তাদের বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, মোবাইল লঞ্চার এবং ভূগর্ভস্থ সামরিক স্থাপনার ওপর পুনরায় কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। স্যাটেলাইট নজরদারি ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতে তৈরি এই মূল্যায়নটি সাম্প্রতিক মাসগুলোতে প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে থাকা অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি বর্তমানে সচল রয়েছে। বিশেষ করে মোবাইল লঞ্চার ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্রুত অবস্থান পরিবর্তন ও হামলা চালানোর সক্ষমতা দেশটির প্রতিরক্ষা কাঠামোকে আরও নমনীয় করেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরানের ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামোর বড় অংশ এখনো কার্যকর রয়েছে। এসব স্থাপনা দীর্ঘদিন ধরে আংশিক বা পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে বলে গোয়েন্দা পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। ফলে দেশটির সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছে—এমন ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে নতুন এই তথ্য।

মার্কিন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র মজুদে দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র থেকে শুরু করে স্বল্পপাল্লার ও নৌ-লক্ষ্যবস্তুতে ব্যবহৃত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র রয়েছে। এই বহুমাত্রিক সক্ষমতা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে যে, কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালীর আশপাশে ইরানের সামরিক উপস্থিতি আঞ্চলিক নৌ-চলাচলের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হওয়ায় এই অঞ্চলে যেকোনো উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ বিষয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত মন্তব্য করেননি। সাধারণত এ ধরনের গোয়েন্দা প্রতিবেদন গোপন নথি হিসেবে সীমিত পরিসরে নীতিনির্ধারকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন মূল্যায়ন ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইরান সাম্প্রতিক সংঘাত ও চাপের মধ্যেও তার সামরিক সক্ষমতা ধরে রাখতে এবং আংশিকভাবে পুনর্গঠন করতে সক্ষম হয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে কৌশলগত মূল্যায়নের প্রয়োজন দেখা দিতে পারে। তথ্যসূত্র : দ্য নিউইয়র্ক টাইমস

AHA
আরও পড়ুন