৯টি হাতির সমান ওজনের ডাইনোসরের সন্ধান!

আপডেট : ১৬ মে ২০২৬, ০৬:৩২ পিএম

থাইল্যান্ডে আবিষ্কৃত জীবাশ্ম পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সম্পূর্ণ নতুন প্রজাতির এক বিশাল আকৃতির ডাইনোসর শনাক্ত করেছেন বিজ্ঞানীরা। ধারণা করা হচ্ছে, প্রকাণ্ড এই প্রাণীর ওজন ছিল প্রায় ৯টি পূর্ণবয়স্ক হাতির সমান।

‘সায়েন্টিফিক রিপোর্টস’ সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণা নিবন্ধে বলা হয়েছে, লম্বা গলাযুক্ত এই তৃণভোজী ডাইনোসরটি দৈর্ঘ্যে ছিল প্রায় ২৭ মিটার (৮৮ ফুট) এবং এর ওজন ছিল প্রায় ২৭ টন।

গবেষকদের মতে, প্রায় ১০ থেকে ১২ কোটি বছর আগে ডাইনোসরটি বর্তমান থাইল্যান্ডের ভূখণ্ডে বিচরণ করত। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এখন পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া ডাইনোসরগুলোর মধ্যে এটিই আকারে সবচেয়ে বড়। বিজ্ঞানীদের অনুমান, নতুন আবিষ্কৃত এই ডাইনোসরটির শারীরিক ভর ছিল ৯টি পূর্ণবয়স্ক এশীয় হাতির সমান।

প্রধান গবেষক থিটিওত সেথাপানিচসাকুল বলেন, ‘সাধারণ মানুষের মানদণ্ডে আমাদের আবিষ্কৃত ডাইনোসরটি বিশাল আকৃতির। লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামে প্রদর্শিত বিখ্যাত ডিপ্লোডোকাস ডাইনোসরের (ডিপ্পি) চেয়েও এর ওজন অন্তত ১০ টন বেশি ছিল’।

থাইল্যান্ডের যে ভূতাত্ত্বিক স্তরে ডাইনোসরটির সন্ধান মিলেছে, তা ওই অঞ্চলের সবচেয়ে কম বয়সী শিলাস্তরগুলোর একটি। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের (ইউসিএল) পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই কারণে থাই পিএইচডি শিক্ষার্থী থিটিওত নতুন আবিষ্কৃত এই সরোপড ডাইনোসরটিকে ‘দ্য লাস্ট টাইটান’ বা ‘সর্বশেষ টাইটান’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

তিনি আরও যোগ করেন, পরবর্তীতে এই অঞ্চলটি একটি অগভীর সমুদ্রে পরিণত হয়েছিল। ফলে, ‘দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এটিই হয়তো আমাদের খুঁজে পাওয়া শেষ বা সবচেয়ে সাম্প্রতিককালের বিশাল আকৃতির সরোপড’।

প্রকাশিত গবেষণা অনুযায়ী, এক দশক আগে থাইল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথম এই বিশাল প্রাণীর অবশিষ্টাংশ খুঁজে পান। তবে ২০২৪ সালের আগে এর খননকাজ সম্পূর্ণ করা সম্ভব হয়নি।

উদ্ধার হওয়া জীবাশ্মগুলো দেখতে এর আগে আবিষ্কৃত সরোপড ডাইনোসরগুলোর মতো হলেও, এতে বেশ কিছু স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য রয়েছে। আর এই অনন্য বৈশিষ্ট্যের কারণেই একে সম্পূর্ণ নতুন একটি প্রজাতি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার লোকগাথার এক নাগ বা সাপ, গ্রিক পুরাণের দৈত্য ‘টাইটান’ এবং থাইল্যান্ডের যে প্রদেশে এটি পাওয়া গেছে সেই ‘চাইয়াফুম’-এর নাম মিলিয়ে ডাইনোসরটির নামকরণ করা হয়েছে—‘নাগাটাইটান চাইয়াফুমেনসিস’।

ইউসিএল জানিয়েছে, ব্যাংককের ‘থাইনোসর মিউজিয়াম’-এ ডাইনোসরটির একটি বাস্তব আকৃতির (লাইফ-সাইজ) প্রতিকৃতি প্রদর্শনের জন্য রাখা হয়েছে।

AHA
আরও পড়ুন