প্রকাশ্যে গরুসহ সব ধরনের পশু জবাই নিষিদ্ধ করলো বিজেপি

আপডেট : ১৪ মে ২০২৬, ০৭:৪০ পিএম

রাজ্য সরকারের স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দপ্তর থেকে জারি করা এই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, 'গরু, বলদ, বাছুর, মাদি ও মদ্দা মহিষ এবং খাসি করা মহিষের ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর হবে। প্রয়োজনীয় সনদ ছাড়া কোনো ব্যক্তিই এই প্রাণীগুলো জবাই করতে পারবেন না।'

'ফিট-ফর-স্লটার' (জবাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় সনদ) নেওয়া বাধ্যতামূলক করেছে রাজ্য সরকার। গত বুধবার এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নির্দেশ জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে জনসমক্ষে বা খোলা জায়গায় এসব পশু জবাই করার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

রাজ্য সরকারের স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দপ্তর থেকে জারি করা এই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, 'গরু, বলদ, বাছুর, মাদি ও মদ্দা মহিষ এবং খাসি করা মহিষের ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর হবে। প্রয়োজনীয় সনদ ছাড়া কোনো ব্যক্তিই এই প্রাণীগুলো জবাই করতে পারবেন না।'

নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, পশু জবাই করার আগে সংশ্লিষ্ট পৌরসভার চেয়ারম্যান বা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির পাশাপাশি সরকারি পশুচিকিৎসকের যৌথ সনদ নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পশুর বয়স, শারীরিক অবস্থা ও সক্ষমতা পরীক্ষা করেই এই সনদ দেওয়া হবে।

নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট পশুর বয়স কমপক্ষে ১৪ বছর হতে হবে। পাশাপাশি পশুটি বার্ধক্য, আঘাতপ্রাপ্ত, বিকলাঙ্গতা বা অন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি ও দুরারোগ্য রোগে স্থায়ীভাবে অক্ষম কি না, তাও যাচাই করতে হবে।

এতে আরও বলা হয়েছে, কোনো ক্ষেত্রে সনদ দিতে অস্বীকৃতি জানানো হলে আবেদনকারী ১৫ দিনের মধ্যে রাজ্য সরকারের কাছে আপিল করতে পারবেন। তবে অনুমোদন মিললেও রাস্তাঘাট বা প্রকাশ্য স্থানে পশু জবাই সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শুধুমাত্র সরকার অনুমোদিত কসাইখানায় এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

নির্দেশনা অমান্য করলে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। দোষী প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড হতে পারে। পাশাপাশি এক হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা কারাদণ্ড ও জরিমানা—উভয় দণ্ডই হতে পারে। ১৯৫০ সালের সংশ্লিষ্ট আইনের আওতায় এ ধরনের অপরাধ আদালতে বিচারযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবে বলেও জানানো হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক সূত্র বলছে, পশুর প্রতি নিষ্ঠুরতা কমানো এবং আইন মেনে পশু জবাই নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট ও কলকাতা হাইকোর্টের প্রাসঙ্গিক রায়ও সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

AHA
আরও পড়ুন