দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে শি-পুতিন অবস্থান সমান-সমান: বিশ্লেষক

আপডেট : ২০ মে ২০২৬, ১২:১৭ পিএম

বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যকার চলমান বৈঠকটিকে ওয়াশিংটন বেশ উদ্বেগের সঙ্গেই পর্যবেক্ষণ করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বেইজিংয়ের ‘সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল গভর্নেন্স ইনোভেশন’-এর সিনিয়র ফেলো আইনার টাঙ্গেন কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্য করেছেন।

আইনার টাঙ্গেন বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কখনোই চায়নি চীন ও রাশিয়া পরস্পরের অংশীদার হয়ে উঠুক। তবে বাণিজ্য ও ভূরাজনীতির খাতিরে এই দুই দেশ একে অপরের প্রাকৃতিক পরিপূরক। তিনি উল্লেখ করেন, রাশিয়া হলো বিশ্বের এক নম্বর প্রাকৃতিক সম্পদের দেশ, আর চীন উৎপাদন শিল্পে (ম্যানুফ্যাকচারিং) এক নম্বর।

চীন-রাশিয়া সম্পর্কটি একতরফা বা অসম- পশ্চিমা দেশগুলোর এমন দাবি নাকচ করে দিয়ে টাঙ্গেন বলেন, আপনারা প্রায়শই একটি ন্যারেটিভ বা প্রচারণায় শুনে থাকবেন যে এটি এক ধরনের অসম সম্পর্ক। কিন্তু বাস্তব হলো, চীনের প্রাকৃতিক সম্পদের প্রয়োজন রয়েছে এবং তাদের বাজার ও জ্বালানি প্রাপ্তির সুবিধা দরকার।

তিনি আরও যুক্তি দেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শুধু ইরানের ক্ষেত্রেই জ্বালানি সরবরাহে বাধা বা হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করছে না, বরং তারা ভেনিজুয়েলার তেল খাতের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্যও পদক্ষেপ নিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই ধরনের নীতির কারণেই চীনের জন্য রাশিয়ার সঙ্গে একটি স্থিতিশীল স্থল সীমান্ত বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।

টাঙ্গেন জানান, এই সীমান্ত দিয়ে চীন অত্যন্ত কম খরচে রাশিয়ার তেল ও গ্যাস পাচ্ছে, যা ইউরোপের কেনা দামের তুলনায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কম। ফলে, এটি দুই দেশের জন্যই একটি ‘সমান-সমান’ দরকষাকষির (ইকুয়াল বারগেইনিং) পরিস্থিতি। এখানে কেউ কারও ওপর আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছে না, বরং তারা একে অপরের অত্যন্ত ভালো বন্ধু।

সূত্র: আলজাজিরা

SN
আরও পড়ুন