চীন-পাকিস্তান 'আয়রন ব্রাদার্স' সম্পর্কের ৭৫ বছর

আপডেট : ২১ মে ২০২৬, ০৪:২১ পিএম

চীন ও পাকিস্তানের সম্পর্ককে দীর্ঘদিন ধরেই বলা হয় 'আয়রন ব্রাদার্স' বা লৌহভ্রাতৃত্ব। সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে গড়ে ওঠা এই সম্পর্ক এখন কেবল কূটনৈতিক বন্ধুত্বে সীমাবদ্ধ নেই; বরং সামরিক, অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক সহযোগিতার এক গভীর কৌশলগত জোটে রূপ নিয়েছে।

দুই দেশের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক শুরু হয় ১৯৫১ সালে। এরপর সীমান্ত চুক্তি, সামরিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক রাজনীতিতে অভিন্ন অবস্থানের মাধ্যমে সম্পর্ক ক্রমেই শক্তিশালী হয়। বর্তমানে বেইজিং ও ইসলামাবাদ একে অপরকে 'অল-ওয়েদার স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার' হিসেবেও বর্ণনা করে।

বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা, দক্ষিণ এশিয়ায় কৌশলগত ভারসাম্য এবং ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে প্রভাব বিস্তারের প্রশ্নে দুই দেশের স্বার্থ এক জায়গায় এসে মিলেছে। এ কারণেই নানা আন্তর্জাতিক চাপ ও পরিবর্তনের মধ্যেও এই সম্পর্ক টিকে রয়েছে।

চীনের অর্থনৈতিক প্রভাব বিস্তারের বৃহৎ প্রকল্প চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর বা সিপিইসি এই সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। প্রায় ৬২ বিলিয়ন ডলারের এই করিডোরকে পাকিস্তান 'গেম চেঞ্জার' হিসেবে দেখছে। বন্দর, মহাসড়ক, জ্বালানি ও অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে পাকিস্তানের অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার লক্ষ্য নিয়েই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বেইজিং।

সম্প্রতি ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার সময়ও চীনের সামরিক ও কূটনৈতিক সমর্থনের বিষয়টি আবার সামনে আসে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সাম্প্রতিক বেইজিং সফরকে বিশ্লেষকরা দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা পুনর্নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে দেখছেন।

তবে এই সম্পর্কের সামনে চ্যালেঞ্জও রয়েছে। পাকিস্তানে চীনা নাগরিকদের ওপর হাম/লা, বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা সংকট এবং আঞ্চলিক ভূরাজনীতির পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তারপরও দুই দেশই প্রকাশ্যে বলে আসছে, তাদের সম্পর্ক 'পাহাড়ের চেয়েও উঁচু, সাগরের চেয়েও গভীর এবং মধুর চেয়েও মিষ্টি'। সূত্র: আলজাজিরা

AS
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত