অবশেষে প্রকাশ পেলো নির্বাচনে কমলার পরাজয়ের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত রিপোর্ট

আপডেট : ২২ মে ২০২৬, ০৯:৩৫ এএম

২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের পরাজয়ের কারণ অনুসন্ধানে ডেমোক্রেটিক পার্টির দীর্ঘ প্রতীক্ষিত পর্যালোচনা বা ‘অটোপসি’ রিপোর্টটি অবশেষে প্রকাশ করা হয়েছে।

তবে গতকাল বৃহস্পতিবার জনসমক্ষে আসা এই প্রতিবেদনটিকে ‘অসম্পূর্ণ ও অনির্ণীত’ হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে; যা অসংখ্য ভুল, তথ্যের ঘাটতি এবং বিতর্কিত দাবিতে ভরা।

ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কমিটি (DNC)-এর চেয়ারম্যান কেন মার্টিন রিপোর্টের এই দুর্বলতা স্বীকার করে বলেছেন, আমি এই প্রতিবেদনটি নিয়ে গর্বিত নই। এটি আমার বা আপনাদের মানের ধারেকাছেও নেই। তবে স্বচ্ছতা বজায় রাখার স্বার্থে যেভাবে পেয়েছি, ঠিক সেভাবেই কোনো সম্পাদনা ছাড়াই এটি প্রকাশ করা হলো।

রিপোর্টে উঠে আসা প্রধান দিক নিচে তুলে ধরা হলো

গাজা পরিস্থিতির কোনো উল্লেখ নেই

নির্বাচনের আগে গাজা যুদ্ধ ডেমোক্র্যাট এবং কমলার জন্য অন্যতম প্রধান ও বিভেদমূলক ইস্যু ছিল। বাইডেন-হ্যারিস প্রশাসন ইসরায়েলকে প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র সহায়তা দিয়েছিল এবং জাতিসংঘে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে বারবার ভেটো দিয়েছিল। এই কট্টর ইসরায়েল-পন্থী নীতির কারণে ডেমোক্র্যাটদের একটি বড় অংশের ভোটাররা কমলার ওপর ক্ষুব্ধ হন। ২০২৫ সালের একটি জরিপ এবং কমলার ডেপুটি ক্যাম্পেইন ম্যানেজার রব ফ্ল্যাহার্টির বক্তব্য অনুযায়ী, গাজা নীতি ভোটারদের উৎসাহ ব্যাপকভাবে কমিয়ে দিয়েছিল এবং কমলার পরাজয়ের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল। অথচ, ১৯২ পৃষ্ঠার এই বিশাল রিপোর্টের কোথাও ‘গাজা’ বা ‘ইসরায়েল’ শব্দটির একটিবারের জন্যও উল্লেখ করা হয়নি।

হারানো অনুচ্ছেদ, ভুল তথ্য এবং আপত্তি

রিপোর্টটি এতটাই অপরিপক্ব যে এর প্রধান সারসংক্ষেপ এবং উপসংহার অংশ দুটি সম্পূর্ণ গায়েব ছিল; সেখানে কেবল ‘Pending’ (ঝুলন্ত) লেখা ছিল। এছাড়া রিপোর্টে বেশ কিছু মৌলিক তথ্যের ভুল ছিল। যেমন—২০২৪ সালে ডেমোক্র্যাটরা ৩টি গভর্নর পদে জিতলেও রিপোর্টে ২টি লেখা হয়েছে। আবার মিশিগান, পেনসিলভানিয়া ও উইসকনসিনকে ডেমোক্র্যাটদের স্থায়ী দুর্গ বলা হলেও, ২০১৬ সালে এই রাজ্যগুলো ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছিল। রিপোর্টের বহু দাবির পাশে নোট দিয়ে লেখা রয়েছে—"এই তথ্যের সত্যতা মেলেনি" বা "জনসমক্ষে থাকা রিপোর্টের সাথে এই তথ্য সাংঘর্ষিক।"

বাইডেনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত সমর্থনের অভাব

রিপোর্টের একটি অংশে হোয়াইট হাউস তথা জো বাইডেন প্রশাসনের সমালোচনা করে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ফার্স্ট লেডি জিল বাইডেনকে কীভাবে কাজে লাগানো যায় তা নিয়ে দল পোলিং বা গবেষণা করলেও, ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসকে নিয়ে এমন কোনো কাজ করা হয়নি। এছাড়া রাজনৈতিকভাবে কোনো প্রশিক্ষণ না দিয়েই কমলাকে অভিবাসনের মতো একটি বিতর্কিত বিষয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে রিপাবলিকানরা সহজেই তাকে ‘বর্ডার জার’ বলে আক্রমণ করতে পেরেছিল। বাইডেন যদি প্রথম থেকেই কমলাকে প্রস্তুত ও ব্যবহার করতেন, তবে তা দুজনের জন্যই ভালো হতো বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়।

‘শুধুমাত্র ট্রাম্পের বিরোধিতা’ করার কৌশল ব্যর্থ

কমলা হ্যারিসের নির্বাচনী প্রচারণার একটি বড় ঘাটতি ছিল যে, তিনি নিজের কোনো ভবিষ্যৎ রূপকল্প বা ভিশন তুলে ধরতে পারেননি। তার পুরো প্রচারণা গড়ে উঠেছিল ‘আমি ট্রাম্পের মতো নই’ এবং ‘অপরাধীর বিরুদ্ধে প্রসিকিউটর’—এই ধারণার ওপর। কিন্তু ডেমোক্র্যাটদের আমলেই দেশজুড়ে চলা তীব্র অর্থনৈতিক সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে ভোটারদের কাছে কেবল ‘ট্রাম্পের বিরোধিতা’ করাটা যথেষ্ট মনে হয়নি। তাছাড়া প্রচারণাকারী দল ট্রাম্পের পূর্ববর্তী মেয়াদের অযোগ্যতা ও নেতিবাচক দিকগুলো ভোটারদের সামনে সঠিকভাবে মনে করিয়ে দিতেও ব্যর্থ হয়েছে।

ট্রান্সজেন্ডার বিজ্ঞাপন নিয়ে কোণঠাসা হওয়া

নির্বাচনী প্রচারণার সময় ট্রাম্প শিবিরের একটি বিজ্ঞাপন কমলার প্রচারণাকে পুরোপুরি কোণঠাসা করে দিয়েছিল। বিজ্ঞাপনে কমলার একটি পুরোনো বক্তব্য দেখানো হয় যেখানে তিনি কারাবন্দি ট্রান্সজেন্ডারদের লিঙ্গ পরিবর্তন অস্ত্রোপচারের সুবিধা দেওয়ার সমর্থন করেছিলেন। বিজ্ঞাপনটির শেষে ধারাভাষ্যকার বলেন—"কমলা হলেন তাদের জন্য; আর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আপনার জন্য।" জরিপকারীরা একমত হয়েছেন যে, এই আক্রমণটি অত্যন্ত কার্যকর ছিল এবং যেহেতু কমলা তার অবস্থান পরিবর্তন করেননি, তাই এর কোনো উপযুক্ত জবাবও কমলার দল দিতে পারেনি। সূত্র: আল জাজিরা

YA
আরও পড়ুন