একদিনে রেকর্ড ২৭৪ পর্বতারোহীর এভারেস্ট জয়

আপডেট : ২২ মে ২০২৬, ১১:৪৮ এএম

মাউন্ট এভারেস্ট জয়ের ইতিহাসে নতুন এক রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। গত বুধবার নেপাল রুট ব্যবহার করে একদিনে রেকর্ডসংখ্যক ২৭৪ জন আরোহী বিশ্বের সর্বোচ্চ এই পর্বতশৃঙ্গে আরোহণ করেছেন। চলতি বসন্ত মৌসুমে আরোহণের রুটে বিশাল এক বরফখণ্ড জমে পথ আটকে থাকায় এবার অভিযান শুরু হতে কিছুটা দেরি হয়। তবে আবহাওয়া অনুকূলে আসতেই সুযোগ হাতছাড়া করেননি পর্বতারোহীরা।

নেপালের পর্যটন বিভাগের কর্মকর্তা খিমলাল গৌতম ‘এভারেস্ট ক্রনিকল’-কে জানান, বুধবার স্থানীয় সময় ভোর ৩টা থেকে আরোহণ শুরু হয়ে টানা ১১ ঘণ্টা ধরে এই অভিযান চলে।

গত বুধবারের এই মাইলফলকটি এর আগের ২০১৯ সালের ২২ মের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। সেই সময়ে নেপালের দক্ষিণ দিক দিয়ে এক দিনে ২২৩ জন আরোহী চূড়ায় পৌঁছেছিলেন। ২০১৯ সালের ওই একই দিনে তিব্বতের উত্তর রুট দিয়ে আরও ১১৩ জন আরোহী চূড়া জয় করলেও, চলতি মৌসুমে চীন এই রুটটি বিদেশি আরোহীদের জন্য বন্ধ রেখেছে।

চলতি বছর ৮,৮৪৯ মিটার (২৯,০৩২ ফুট) উচ্চতার এই পর্বতশৃঙ্গ আরোহণের জন্য প্রায় ৫০০ জন বিদেশি আরোহীকে পারমিট বা অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যা একটি নতুন রেকর্ড। তবে বিশেষজ্ঞরা এভারেস্টে অতিরিক্ত ভিড় এবং নিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছেন। সাধারণত প্রতিটি বিদেশি আরোহীর সাথে অন্তত একজন করে নেপালি গাইড থাকেন, যাদের কোনো পারমিটের প্রয়োজন হয় না। এই সপ্তাহে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা গেছে, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৮,০০০ মিটারের ওপরের অংশ—যা ‘ডেথ জোন’ নামে পরিচিত, সেখানে বরফে ঢাকা ঢালে পর্বতারোহীদের দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়েছে।

দীর্ঘ এক দশকের মধ্যে এবারই প্রথম এভারেস্ট আরোহণের পারমিট ফি ১১,০০০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১৫,০০০ ডলার করা হয়েছে। তবে ফি বাড়লেও পর্যটকদের সংখ্যা কমেনি, বরং বেড়েছে।

ভিড়ের কারণে ঝুঁকির কথা স্বীকার করলেও অভিযান আয়োজকরা মনে করেন এটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। অস্ট্রিয়া-ভিত্তিক ‘ফুর্টেনবাখ অ্যাডভেঞ্চারস’-এর লুকাস ফুর্টেনবাখ রয়টার্সকে বলেন, দলগুলোর কাছে যদি পর্যাপ্ত অক্সিজেন থাকে, তবে এটি বড় কোনো সমস্যা নয়।" আল্পস পর্বতমালার কিছু চূড়ায় প্রতিদিন হাজারো মানুষ আরোহণ করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, "সেই তুলনায় এভারেস্ট ১০ গুণ বড় পর্বত হওয়ায় এক দিনে ২৭৪ জন আসলে খুব বড় কোনো সংখ্যা নয়।

বিগত সপ্তাহে অভিজ্ঞ গাইড থেকে শুরু করে নতুন আরোহী—অনেকেই এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছে নতুন নতুন নজির স্থাপন করেছেন।

গত রবিবার ৫৬ বছর বয়সী বিখ্যাত নেপালি গাইড কামি রিটা শেরপা ৩২তম বারের মতো এভারেস্ট জয় করে নিজের গড়া বিশ্ব রেকর্ড নিজেই ভেঙেছেন।

একই দিনে ‘মাউন্টেন কুইন’ নামে পরিচিত ৫২ বছর বয়সী লাকপা শেরপা ১১তম বারের মতো এভারেস্ট চূড়ায় পা রেখে নারী আরোহী হিসেবে নিজের সর্বোচ্চ আরোহণের রেকর্ডটি ভাঙেন।

রাশিয়ার দুই পা বিচ্ছিন্ন হওয়া ৩৪ বছর বয়সী আরোহী রুস্তম নাবিইয়েভ কোনো কৃত্রিম পা ছাড়াই গত বৃহস্পতিবার এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছানোর এক অবিশ্বাস্য কীর্তি গড়েছেন।

এই উচ্চতায় আরোহীরা সাধারণত কৃত্রিম অক্সিজেনের ওপর নির্ভর করেন এবং বিশেষজ্ঞরা এই বিপজ্জনক ডেথ জোনে ২০ ঘণ্টার বেশি না থাকার পরামর্শ দেন। এত সব রেকর্ডের আনন্দের মাঝেও চলতি মৌসুমে বেশ কয়েকজন আরোহীর মৃত্যু হয়েছে।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন নেপালের সুবিধাবঞ্চিত হিন্দু দলিত সম্প্রদায় থেকে প্রথম এভারেস্ট জয় করা ৩৫ বছর বয়সী আরোহী বিজয় ঘিমিরে। জানা গেছে, তিনি ‘অ্যালটিটিউড সিকনেস’ বা উচ্চতাজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। এছাড়া গত সোমবার ৩ নম্বর ক্যাম্পের কাছে বরফে পিছলে গিরিখাতে পড়ে মারা যান ২১ বছর বয়সী গাইড ফুরা গ্যালজেন শেরপা। এর আগে গত ৩ মে বেস ক্যাম্পে যাওয়ার পথে লাকপা ড্যান্ডি শেরপা নামের ৫১ বছর বয়সী আরেক গাইডের মৃত্যু হয়। সূত্র: বিবিসি

YA
আরও পড়ুন