রামিসা হত্যা মামলার চার্জশিট দাখিল আজ

আপডেট : ২৪ মে ২০২৬, ০৮:২৪ এএম

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আজ রোববার (২৪ মে) আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করা হতে পারে। পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান ভূঁইয়া নিপুণ জানান, মামলার ডিএনএ পরীক্ষার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। 

গতকাল শনিবার ডিএনএ, ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা রিপোর্ট হাতে পেয়েছেন তিনি। সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান জানান, সিআইডির পক্ষ থেকে সব ফরেনসিক রিপোর্ট তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, ইতোমধ্যে চার্জশিট প্রস্তুতের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ডিএনএ রিপোর্টসহ বিভিন্ন ফরেনসিক প্রতিবেদন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে আজই আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হবে।

এর আগে গত ২১ মে রাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিহত রামিসার পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে তাদের বাসায় যান। সেখান থেকে বের হওয়ার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আগামী রোববারের মধ্যে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে।

এদিকে গতকাল শনিবার রাজধানীর মহাখালীতে এক কর্মশালায় অংশ নিয়ে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, "ঈদের আগে চার্জশিট দাখিল করা সম্ভব হলে, ঈদের পরপরই দ্রুততম সময়ে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হবে।" 

রামিসা হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য ধর্ষণ মামলাগুলোও সরকার নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছে বলে জানান আইনমন্ত্রী।

গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে পল্লবীর একটি বাসা থেকে শিশু রামিসার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

ঘটনার পর পরই তৎপর হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গত ২০ মে নারায়ণগঞ্জ থেকে মামলার প্রধান আসামি জাকির হোসেন ওরফে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারের পর তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। 

মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত সোহেল রানা শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে এই নৃশংস অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনা ধামাচাপা দিতে তিনি আলামত ও প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেছিলেন এবং পরে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান।

HN
আরও পড়ুন