ইবোলা ভাইরাস নিয়ে বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক, বাড়ছে মৃত্যু

আপডেট : ৩১ মে ২০২৬, ০৫:২১ এএম

আফ্রিকার কঙ্গোতে প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাসের নতুন ও বিরল স্ট্রেন ‘বুন্দিবুগিও’ (Bundibugyo) ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্বজুড়ে তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। 

এই স্ট্রেনের কোনো সুনির্দিষ্ট প্রতিষেধক বা অনুমোদিত চিকিৎসা না থাকায় প্রতিনিয়ত বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল। 

কঙ্গোর ইতুরি প্রদেশেই এখন পর্যন্ত ২২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংক্রমণ ঠেকানো ও আক্রান্তদের চিকিৎসায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির জোর আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)।

উগান্ডায় ছড়াচ্ছে বিরল 'বুন্দিবুগিও' স্ট্রেন

কঙ্গো ছাড়িয়ে এই বিরল ও মারাত্মক ইবোলা স্ট্রেনটি এখন প্রতিবেশী দেশ উগান্ডাতেও থাবা বসিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, উগান্ডায় এরই মধ্যে বেশ কয়েকজন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। 

কোনো কার্যকর ভ্যাকসিন না থাকায় পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল ও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। সংক্রমণ ঠেকাতে উগান্ডা সরকার কঙ্গোর সাথে তাদের সীমান্ত পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে। 

তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে একে 'অনর্থক' বলে আখ্যায়িত করেছে।

কেনিয়ায় মার্কিন আইসোলেশন সেন্টারে আদালতের নিষেধাজ্ঞা

এদিকে মহামারি কবলিত এলাকা থেকে আক্রান্ত বা সংক্রমিত মার্কিন নাগরিকদের চিকিৎসার জন্য কেনিয়াতে ৫০ শয্যার একটি কোয়ারেন্টাইন সেন্টার খোলার পরিকল্পনা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। 

কিন্তু কেনিয়ার উচ্চ আদালত মার্কিন অর্থায়নে নির্মিতব্য এই ইবোলা আইসোলেশন সেন্টারের কার্যক্রমের ওপর অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

কেনিয়ার মানবাধিকার সংস্থা ‘কাতিবা ইনস্টিটিউট’ এবং চিকিৎসকদের বৃহত্তম ইউনিয়ন 

 

‘কেএমপিডিইউ’ (KMPDU) সরকারের এই গোপন চুক্তির তীব্র সমালোচনা করেছে। তারা একে দেশের বায়োসিকিউরিটির (Biosafety) জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখছেন। চিকিৎসকরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন:

`যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিপজ্জনক ও ঝুঁকিপূর্ণ, তা কেনিয়ার জনগণের জন্যও সমান বিপজ্জনক।'

সংঘাতপূর্ণ ইতুরি প্রদেশ ও ডব্লিউএইচও-র যুদ্ধবিরতির আহ্বান

সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর দীর্ঘ তিন দশকের সহিংসতায় জর্জরিত কঙ্গোর উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে ইবোলার প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। পরিস্থিতি পরিদর্শনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদরোস আধানম গেব্রেয়াসুস নিজে সেখানে উপস্থিত হয়েছেন। 

তিনি আক্রান্তদের পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি টিকাদান ও চিকিৎসা কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে সব যুদ্ধরত পক্ষকে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন।

তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে কঠোর চিকিৎসাবিধি এবং দাফন প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র ক্ষোভ রয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার ঘটনাও ঘটছে, যা পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।

মাঠে নেমেছেন রেড ক্রসের স্বেচ্ছাসেবকরা

এই চরম মানবিক সংকটে কঙ্গোর রেড ক্রস সোসাইটি, আইএফআরসি (IFRC) এবং আইসিআরসি’র (ICRC) যৌথ উদ্যোগে স্বেচ্ছাসেবকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে মাঠে নামানো হয়েছে। 

স্বেচ্ছাসেবকরা ব্যক্তিগত সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম (PPE) পরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ দাফন সম্পন্ন করছেন।

একই সঙ্গে বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়শিবিরগুলোতে ইবোলার লক্ষণ, প্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রিপোর্ট করার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আক্রান্ত ও তাদের পরিবারকে মনস্তাত্ত্বিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন।

HN
আরও পড়ুন