হামের চেয়েও দক্ষভাবে ডেঙ্গু মোকাবিলা করবে সরকার'

আপডেট : ০২ জুন ২০২৬, ০৪:৫৩ পিএম

হাম পরিস্থিতি মোকাবিলায় যে সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতা অর্জিত হয়েছে, তার চেয়েও অধিক দক্ষতা, সমন্বয় এবং প্রস্তুতির সঙ্গে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে চায় সরকার। এমনটাই জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, ডেঙ্গু সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সারাদেশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, মশকনিধন কার্যক্রম এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রস্তুতি আরও জোরদার করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (২ জুন) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভা শেষে ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী জানান, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে দেশের বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে তাদের মোট শয্যার অন্তত ১০ শতাংশ সংরক্ষণ রাখতে হবে। তিনি বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের কাছ থেকে চিকিৎসকদের কোনো ভিজিট ফি নেওয়া হবে না। রোগীদের কেবল ওষুধ ও খাবার বাবদ ব্যয় বহন করতে হবে। পাশাপাশি ডেঙ্গু শনাক্ত ও চিকিৎসা-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পরীক্ষার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী আরও জানান, সিটি করপোরেশনের প্রশাসকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যাপক পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে দেশজুড়ে সমন্বিত ও জোরালো কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। একই সঙ্গে হাসপাতালগুলোকে পর্যাপ্ত ফ্লুইড ও স্যালাইনের মজুত নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে মজুত পরিস্থিতির হালনাগাদ তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতেও বলা হয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, এ পর্যন্ত চারজন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তবে সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা করছে যাতে ডেঙ্গু সংক্রমণ শূন্যের কোঠায় রাখা যায়। এ লক্ষ্য সামনে রেখে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, মশার ওষুধ ছিটানো এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে।

মশকনিধন কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন মহলে ওঠা সমালোচনার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত ওষুধ ভারত থেকে আমদানি করা হয় এবং পরীক্ষাগারে এর মান যাচাই করে সন্তোষজনক ফল পাওয়া গেছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে স্প্রে কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে, যেখানে ওষুধের সঙ্গে কেরোসিন মেশানোর ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনগুলো তদারকি করছে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, সরকার ব্যর্থ হলে দেশ ব্যর্থ হবে। তাই শুধু সরকারি সংস্থাই নয়, করপোরেট খাতসহ সমাজের সব স্তরের মানুষকে একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে। করোনা ও হাম মোকাবিলার মতো ডেঙ্গুর বিরুদ্ধেও সম্মিলিত প্রচেষ্টা, সমন্বিত উদ্যোগ এবং সর্বাত্মক অংশগ্রহণের মাধ্যমে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।

AS
আরও পড়ুন