সাড়ে ৩ হাজার স্লিপার ক্ষতিগ্রস্ত, বাড়ছে রেল দুর্ঘটনার শঙ্কা

আপডেট : ০৬ জুন ২০২৬, ০৩:০৫ পিএম

নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার রেলপথের সাড়ে ৭ কিলোমিটার এলাকার প্রায় ৩ হাজার ৪০০ কংক্রিট স্লিপার ভেঙে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই রেলপথ দিন দিন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। ক্ষতিগ্রস্ত এসব স্লিপারের ওপর দিয়েই প্রতিদিন চলাচল করছে আন্তঃনগর, মেইল ও ঢাকাগামী ট্রেন। এতে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে স্লিপারগুলো ভাঙা অবস্থায় পড়ে থাকলেও কার্যত সংস্কারের উদ্যোগ নেই। দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত স্লিপার প্রতিস্থাপন ও রেলপথ মেরামত না করলে যাত্রী নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার সান্তাহার কিলোমিটার বোর্ড সেকশনের পিলার ২২৬/৩ থেকে সেকশন পিলার ২৩৩/০ পর্যন্ত এলাকায় অনেক রেলের স্লিপার ভাঙা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ক্ষতিগ্রস্ত স্লিপারের সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার ৪০০।

উপজেলার বড়াল ব্রিজ এলাকা, মালঞ্চি রেলস্টেশন, মালঞ্চি বাজার লেভেল ক্রসিং, বড়পুকুরিয়া লেভেল ক্রসিং, ঠেঙ্গামারা লেভেল ক্রসিং, স্বরূপপুর লেভেল ক্রসিং এবং ইয়াছিনপুর রেলস্টেশনের লেভেল ক্রসিং এলাকায় অধিকাংশ কংক্রিট স্লিপার ফেটে ও ভেঙে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও অনেক স্লিপার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার উপক্রম হয়ে আছে।

অনেক স্থানে রেললাইনের নিচের স্লিপার নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। কোথাও নাট-বল্টু খুলে বেরিয়ে গেছে, আবার কোথাও স্লিপারের নাট-বল্টু চুরি হয়ে গেছে। কোনো কোনো স্থানে স্লিপারের ভেতরের লোহার তার বাইরে বের হয়ে রয়েছে। কোথাও একটি স্লিপার ভাঙা থাকলেও, আবার কোথাও একসঙ্গে ৪ থেকে ৫টি স্লিপার ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এসব স্লিপার ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় পড়ে থাকলেও সংস্কারের কোনো কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। দ্রুত মেরামত না করা হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

রেল কর্তৃপক্ষের সূত্রে জানা যায়, রাজধানীসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য এই রেলপথ একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এ রেললাইন দিয়ে প্রতিদিন আপ-ডাউন মেইল, আন্তঃনগর ও ঢাকাগামীসহ মোট ৩২টি ট্রেন চলাচল করে।

বড়পুকুরিয়া লেভেল ক্রসিংয়ের গেটম্যান আমিরুল ইসলাম এবং ইয়াছিনপুর লেভেল ক্রসিংয়ের গেটম্যান ইরাক হোসেন জানান, রেললাইনের অনেক স্লিপার দীর্ঘদিন ধরেই ভাঙা অবস্থায় পড়ে আছে। কোনো কোনো স্থানে একসঙ্গে একাধিক স্লিপার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রেললাইন থাকলে যেকোনো সময় ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা আরও জানান, অনেক আগেই রেল কর্তৃপক্ষ এসে ক্ষতিগ্রস্ত স্লিপারগুলো পরিদর্শন করে গেছেন, তবে এখনো কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

সান্তাহার ৬ আইএসের আওতাধীন বাগাতিপাড়া সীমার মধ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত রেলমিস্ত্রি (মেট) কিরণ সরকার জানান, বাগাতিপাড়া রেলসীমার সাড়ে ৭ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে তার দায়িত্বাধীন অংশে প্রায় ৩ হাজার ৪০০টি কংক্রিট স্লিপার ভাঙা অবস্থায় রয়েছে। প্রতি ছয় মাস পরপর তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তার এলাকার রেলপথের প্রতিবেদন জমা দেন এবং প্রতিবেদনে এসব ভাঙা স্লিপারের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) ফরিদ আহমেদ জানান, বিষয়টি তার জানা আছে। নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে ওই ভাঙা স্লিপারগুলো অপসারণ করে রেললাইন সংস্কার করা হবে।

MU/SN
আরও পড়ুন