বিশ্বকাপ শুরুর আগেই নানামুখী বিতর্ক, যা বললেন ফিফা সভাপতি

আপডেট : ১১ জুন ২০২৬, ১০:০৩ এএম

২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলের উদ্বোধনী ম্যাচকে সামনে রেখে মেক্সিকোর অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিতর্কিত বক্তব্য দিয়েছেন বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।

টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই রেফারি ও দলগুলোর ভিসা জটিলতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা চললেও, ইনফান্তিনো বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিয়ে উল্টো সবাইকে ‘চিল’ (Chill) ও ‘রিল্যাক্স’ (Relax) থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্বোধনী ম্যাচের প্রাক্কালে বেশ কয়েকটি বড় বিতর্ক সামনে এসেছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো আফ্রিকার এক নম্বর রেফারি, সোমালিয়ার ওমর আরতানকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১১ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসীদের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ এনেছে মার্কিন প্রশাসন, যার ফলে তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় স্বপ্নটি ভেঙে গেছে।

শুধু তাই নয়, ইরাকের স্ট্রাইকার আইমেন হুসেইনকে শিকাগো বিমানবন্দরে কয়েক ঘণ্টা আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এছাড়া, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে ইরান দলকে তাদের বেস ক্যাম্প বা মূল ঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্রে না রেখে মেক্সিকোতে স্থানান্তর করতে বাধ্য করা হয়েছে। এমনকি ইরানি প্রতিনিধিদের অনেকের ভিসা বাতিল করা হয়েছে এবং সমর্থকদের টিকিটও বাতিল করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ইরান দল কেবল তাদের ম্যাচ খেলার জন্য ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও প্রস্থান করতে পারবে।

রেফারি ওমর আরতানকে ফেরত পাঠানোর ঘটনাকে ফিফা প্রধান স্রেফ "দুর্ভাগ্যজনক" বলে মন্তব্য করেছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোনো কড়া অবস্থান না নিয়ে তিনি বলেন, "আমরা তো সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। আমরা চেষ্টা করব, আলোচনা করব, কথা বলব এবং দেখব। তবে অনেক সময় ‘চিল’ বা ‘রিল্যাক্স’ থাকাও ভালো।"

ফিফা সভাপতি স্পষ্ট করে জানান যে তারা কোনো সরকার বা পুলিশ বাহিনীর ওপর শাসন করার ক্ষমতা রাখেন না, তারা কেবল একটি ক্রীড়া সংস্থা। যখন ইন্দোনেশিয়া ইসরায়েলকে ঢুকতে না দেওয়ায় ২০২৩ সালের অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপের আয়োজক স্বত্ব কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, তখন ফিফা কঠোর থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে নিজেদের "ক্ষমতাহীন" বলে দাবি করেছেন ইনফান্তিনো। তবে বৈরী পরিস্থিতির মধ্যেও ইরান যে বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারছে, একে নিজের একটি বড় সাফল্য হিসেবে দাবি করেন তিনি।

বিশ্বকাপের টিকিটের দাম কৃত্রিমভাবে বাড়ানো এবং ভক্তদের বিভ্রান্ত করার যে অভিযোগ ফিফার বিরুদ্ধে উঠেছে, তা-ও উড়িয়ে দিয়েছেন ইনফান্তিনো। ক্যালিফোর্নিয়া, নিউ জার্সি, নিউ ইয়র্ক এবং টেক্সাসের অ্যাটর্নি জেনারেলরা টিকিটের দাম নিয়ে তদন্ত শুরু করলেও ফিফা প্রধান একে সামান্য "তিনটি অভিযোগ" বলে উপহাস করেন। তিনি দাবি করেন, উত্তর আমেরিকার বাজারের জন্য এই দাম সঠিক এবং এর চাহিদা আগের চেয়ে ১০ গুণেরও বেশি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন বিরোধী নীতির কারণে ফিফা বিশ্বকাপের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে— এমন অভিযোগ উঠলেও ইনফান্তিনো ট্রাম্পের পক্ষে জোরালো সাফাই গেয়েছেন। ৭৯ বছর বয়সী ট্রাম্পের প্রশংসা করে তিনি বলেন, "প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাথে আমার চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে। তাঁর সম্পৃক্ততা ও সহযোগিতা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে এই বিশ্বকাপ আয়োজন করা অসম্ভব ছিল। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্বকাপের মহত্ব বুঝতে পেরেছিলেন এবং প্রশাসনকে সহযোগিতার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

ফিফা প্রধানের এই নমনীয় ও গা-বাঁচানো বক্তব্যে বঞ্চিত হওয়া রেফারি, খেলোয়াড় ও সাধারণ সমর্থকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। সূত্র: বিবিসি

YA
আরও পড়ুন