প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রস্তুত, প্রকাশ কবে?

আপডেট : ১৩ জুন ২০২৬, ০৬:১৩ পিএম

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ফল প্রকাশের চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে পৌঁছেছে। ২০২৫ সালের জন্য নির্ধারিত হলেও ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে অনুষ্ঠিত এ পরীক্ষায় অংশ নেওয় প্রায় সাড়ে ছয় লাখ শিক্ষার্থী।

ইতোমধ্যে ফলাফলের খসড়া তৈরি হয়ে গেছে এবং বর্তমানে চলছে শেষ ধাপের যাচাই-বাছাই। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যেই ফল প্রকাশ করা হতে পারে।

ফলাফল প্রকাশে বিলম্বের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে শিক্ষা পদক, গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার মতো নিয়মিত কার্যক্রমের ব্যস্ততা। তবে এখন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলেই ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই তা জানতে পারবে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অফিশিয়াল পোর্টাল (আইপিইএমআইএস) ছাড়াও মোবাইল ফোনের খুদে বার্তার (এসএমএস) মাধ্যমে দ্রুত ফল সংগ্রহের সুযোগ থাকবে।

গত ১৫ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত সারা দেশে একযোগে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়, তিন পার্বত্য জেলা ছাড়া। রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে বিশেষ সূচিতে পরীক্ষা নেওয়া হয় ১৭ থেকে ২০ এপ্রিল। এবার মোট ৮২ হাজার ৫০০ জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তির জন্য মনোনীত করা হবে। এর মধ্যে সরকারি বিদ্যালয় থেকে ৬৬ হাজার এবং বেসরকারি বিদ্যালয় থেকে ১৬ হাজার ৫০০ জন শিক্ষার্থী নির্বাচিত হবে। ছাত্র ও ছাত্রী সমান সংখ্যায় বৃত্তি পাবে।

বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের ‘ট্যালেন্টপুল’ ও ‘সাধারণ গ্রেড’–এই দুই ভাগে আর্থিক সুবিধা দেওয়া হবে। ট্যালেন্টপুলে নির্বাচিত ৩৩ হাজার শিক্ষার্থী মাসিক ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং সাধারণ গ্রেডে ৪৯ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী মাসিক ২২৫ থেকে ২৫০ টাকা পাবে। এছাড়া প্রতিবছর এককালীন ২২৫ টাকা অতিরিক্ত ভাতা দেওয়া হবে। ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত তিন বছর শিক্ষার্থীরা এ সুবিধা ভোগ করবে।

শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এ বৃত্তির টাকার পরিমাণ দ্বিগুণ থেকে চার গুণ পর্যন্ত বাড়ানোর একটি প্রস্তাব সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আগ্রহ বাড়বে এবং পরিবারগুলোও আর্থিকভাবে কিছুটা স্বস্তি পাবে।

এবারের বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় বেশি হওয়ায় প্রতিযোগিতা ছিল তীব্র। বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা এ পরীক্ষায় ব্যাপকভাবে অংশ নিয়েছে। শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, এ ধরনের বৃত্তি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উৎসাহ যোগায় এবং প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

AHA
আরও পড়ুন