সুইজারল্যান্ডের জনসংখ্যা ১ কোটি (১০ মিলিয়ন) অতিক্রম করতে পারবে না—ডানপন্থী দলগুলোর দেওয়া এমন একটি বিতর্কিত প্রস্তাব গণভোটে প্রত্যাখ্যান করেছেন দেশটির নাগরিকরা।
সোমবার (১৫ জুন) প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, প্রায় ৫৫ শতাংশ ভোটার প্রস্তাবটির বিপক্ষে এবং ৪৫ শতাংশ পক্ষে ভোট দিয়েছেন। এই ঐতিহাসিক ভোটে দেশটির মোট জনসংখ্যার ৬০ শতাংশ অংশগ্রহণ করেন।
জনসংখ্যা সীমাবদ্ধ করার এই প্রস্তাবটি এনেছিল ডানপন্থী ‘সুইস পিপলস পার্টি’ (SVP)। তারা দীর্ঘদিন ধরে অভিবাসন বিরোধী প্রচারণা চালিয়ে আসছে এবং দাবি করেছিল যে, জনসংখ্যা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখলে আবাসন, পরিবহন ব্যবস্থা এবং পরিবেশের ওপর চাপ কমবে। তবে দেশটির সরকার, ব্যবসায়ী সমাজ এবং অন্যান্য প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেছিল।
সুইস ভোটারদের এই সিদ্ধান্তের পেছনে কয়েকটি প্রধান কারণ কাজ করেছে:
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে সম্পর্ক: এই প্রস্তাবটি পাস হলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) সাথে সুইজারল্যান্ডের ‘অবাধ চলাচল’ চুক্তি হুমকির মুখে পড়ত। যেহেতু সুইস পণ্যের অর্ধেকের বেশি ইইউ দেশগুলোতে বিক্রি হয়, তাই সেই বাজারের সুবিধা হারানো বড় ঝুঁকির কারণ ছিল।
শ্রমিক সংকট: পর্যটন খাত, হাসপাতাল এবং কেয়ার হোমগুলোতে কর্মরত কর্মীদের একটি বিশাল অংশই অভিবাসী। উদাহরণস্বরূপ, হোটেলগুলোতে কর্মরত অর্ধেক কর্মীই বিদেশি। ভোটাররা আশঙ্কা করেছিলেন যে, অভিবাসন সীমিত করলে এসব জরুরি খাতে ভয়াবহ কর্মী সংকট দেখা দেবে।
শহর ও গ্রামের পার্থক্য: বড় শহরগুলোতে এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থান দেখা গেছে। রাজধানী বার্নে প্রায় ৮৪ শতাংশ ভোটার এই ক্যাপ বা সীমাবদ্ধতার বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন।
সুইজারল্যান্ডের বিচারমন্ত্রী বিট জ্যানস এই ফলাফলকে ‘স্থায়িত্ব, উন্মুক্ততা এবং নির্ভরযোগ্যতার লক্ষণ’ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন এই ফলাফলকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, “সুইস জনগণ তাদের কথা বলেছে। ইইউ এবং সুইজারল্যান্ডের মধ্যে গভীর সম্পর্ক ও শক্তিশালী অংশীদারিত্ব রয়েছে”।
সুইস পিপলস পার্টির নেতা মার্সেল ডেটলিং এবং নিলস ফিয়েক্টার দাবি করেছেন যে, অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসনের কারণে স্কুলগুলোতে অতিরিক্ত ভিড় এবং সামাজিক পরিষেবাগুলোতে চাপ বাড়ছে। অন্যদিকে, সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট নেত্রী হেলিন জেনিস এই যুক্তি খণ্ডন করে বলেছেন, “ভাড়া বৃদ্ধি বা স্বাস্থ্য বীমা প্রিমিয়াম বাড়ার জন্য অভিবাসীরা দায়ী নয়, বরং রাজনৈতিক সিদ্ধান্তই এর জন্য দায়ী”।
বর্তমানে সুইজারল্যান্ডের জনসংখ্যা ৯১ লক্ষ (৯.১ মিলিয়ন), যার মধ্যে ২৭ শতাংশই দেশটির নাগরিক নন। ২০০২ সালে এই জনসংখ্যা ছিল ৭৩ লক্ষ। বিশ্লেষকদের মতে, ভোটাররা বুঝতে পেরেছেন যে একটি বয়স্ক জনগোষ্ঠীর প্রয়োজন মেটাতে এবং অর্থনৈতিক গতিশীলতা বজায় রাখতে বিদেশি দক্ষ কর্মীর কোনো বিকল্প নেই। সূত্র: বিবিসি
উড্ডয়নের পরই যুক্তরাষ্ট্রে বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ১২
স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধ হচ্ছে আজ রাত থেকেই: ইরান
হরমুজে আর কখনও টোল দিতে হবে না: ট্রাম্প