স্বাভাবিক হচ্ছে ইসলামী ব্যাংকের লেনদেন

আপডেট : ১৫ জুন ২০২৬, ০৫:৪২ পিএম

তীব্র তারল্য সংকট এবং আমানতকারীদের উদ্বেগ কাটিয়ে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরছে দেশের অন্যতম প্রধান বেসরকারি ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি।

সংকট কাটিয়ে উঠতে গতকাল রোববার (১৪ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে জরুরি ভিত্তিতে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বিশেষ ঋণ দেওয়া হয়েছে। একই সাথে ব্যাংকের সুশাসন ফেরাতে বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে সব ক্ষমতা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন কর্মকর্তার হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে।

জরুরি এই ক্যাশ সাপোর্ট পাওয়ার পর ব্যাংকটির শাখাগুলোতে নগদ টাকার সরবরাহ বেড়েছে। বিগত কয়েক দিনের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার পর গ্রাহকরা এখন তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ উত্তোলন করতে পারছেন। বেশির ভাগ শাখাতেই গ্রাহকদের ভিড় কমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বড় পদক্ষেপ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ পুরো পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ এবং ৪৭(৩) ধারার ক্ষমতাবলে আমানতকারী ও জনস্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেনকে পর্ষদের সমস্ত ক্ষমতা ও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এদিকে ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, সম্প্রতি ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন নেতিবাচক গুজবের কারণে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে আমানতকারীরা দলে দলে ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে শুরু করলে তীব্র তারল্য সংকটের সৃষ্টি হয়। অনেক শাখায় গ্রাহকদের চাহিদামতো নগদ টাকা দিতে না পারায় উদ্বেগ আরও বেড়ে গিয়েছিল।

আড়াই হাজার কোটি টাকার তহবিল পাওয়ার পর ব্যাংকটির সব শাখায় নগদ অর্থ সরবরাহ পরিস্থিতি দ্রুত উন্নত হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন এটিএম বুথগুলোতে পর্যাপ্ত টাকা পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া অনলাইন ব্যাংকিং এবং মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে লেনদেনও পুরোপুরি সচল ও স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।

তবে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুধু নগদ টাকার যোগান দিয়ে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। গ্রাহক ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুরোপুরি ফিরিয়ে আনতে হলে ব্যাংকের সুশাসন, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং একটি স্থিতিশীল ও স্থায়ী নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে হবে।

YA
আরও পড়ুন