এশিয়ার দুই প্রভাবশালী দেশ মালয়েশিয়া ও চীনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক ব্যস্ত সফর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি এবং আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন সমীকরণের আভাস দিচ্ছে। কুয়ালালামপুরে দ্বিপাক্ষিক সফর শেষে আজ চীনের দালিয়ানে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন সরকারপ্রধান।
এর আগে, সোমবার (২২ জুন) রাতে মালয়েশিয়া থেকে সরাসরি চীনের দালিয়ান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক জোরদারে এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
সফরের প্রথম দিন মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাতে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের আমন্ত্রণে এক রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান। এই ভোজের টেবিলটি কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা পরিণত হয়েছিল বৈশ্বিক ‘সফট ডিপ্লোম্যাসি’র এক অনন্য মঞ্চে।
সেখানে চীনের প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ার কিম মিন সিওক, মঙ্গোলিয়ার নিয়াম ওসোরিন উচরাল, গিনির আমাদু ওউরি বাহ, মন্টিনিগ্রোর মিলোজকো স্পাজিচ এবং কাজাখস্তানের ওলজাস বেকটেনভের মতো বিশ্বনেতাদের সঙ্গে একই সারিতে বসেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এই নৈশভোজের গুরুত্ব তুলে ধরে জানান, বিশ্বনেতাদের এই একত্রীকরণ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের জন্য এক উন্মুক্ত আলাপচারিতার পথ উন্মোচিত করেছে। এর আগে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের উষ্ণ অভ্যর্থনা এবং বর্তমান বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে এই অংশগ্রহণ প্রমাণ করে, এশীয় অঞ্চলের ভূ-রাজনীতি ও অর্থনীতিতে বাংলাদেশ নিজের অবস্থান আরও দৃঢ় করতে চাইছে।
জানা গেছে, বুধবার (২৪ জুন) সকালে বিশ্ব অর্থনৈতিক সম্মেলনে যোগদানের পর, দুপুরের দিকে চীনের সুপরিচিত দ্রুতগতির বুলেট ট্রেনে চড়ে বেইজিংয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। দালিয়ানের বহুপাক্ষিক ফোরামের পর বেইজিংয়ে চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তার সম্ভাব্য বৈঠকগুলোতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কৌশলগত অংশীদারিত্বের মতো দ্বিপাক্ষিক বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মালয়েশিয়া ও চীনের এই ব্যাক-টু-ব্যাক সফর এশিয়ার উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তিগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের অংশীদারিত্বকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে, যা আগামী দিনগুলোতে এশীয় কূটনীতিতে ঢাকার অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।
বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থান নিশ্চিত করছেন প্রধানমন্ত্রী
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর