‘আই অ্যাম ব্যাক’

আপডেট : ২৪ জুন ২০২৬, ০৬:৪১ পিএম

মঞ্চটা যেন তার জন্যই সাজানো ছিল। প্রশ্ন ছিল শুধু একটাই, স্পটলাইটটা কার ওপর গিয়ে পড়বে? উত্তরটার জন্য খুব বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সম্প্রচার ক্যামেরা খুঁজে নেয় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে। আর সেই চিরচেনা আত্মবিশ্বাসী হাসি নিয়ে তিনি বলে ওঠেন, ‘আই অ্যাম ব্যাক’।

আসলে ফিরেছেনও তিনি। ফিরেছে তার গোল, ফিরেছে প্রভাব, ফিরেছে সেই পুরোনো দাপট। আর সঙ্গে ফিরেছে রেকর্ড গড়ার পুরনো অভ্যাস।

যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাতে যা করলেন পর্তুগিজ মহাতারকা, তা যেন মনে করিয়ে দিল, মহানদের গল্পে শেষ বলে কিছু নেই, আছে শুধু নতুন অধ্যায়।

কয়েকদিন আগেও চিত্রটা ছিল ভিন্ন। চলতি বিশ্বকাপে তার শুরুটা হয়েছিল হতাশাজনকভাবে। ডি আর কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচে প্রায় নিষ্প্রভ ছিলেন তিনি। এরপর নেতৃত্ব, ফর্ম এবং বয়স, সবকিছু নিয়েই শুরু হয়েছিল সমালোচনা।

তবে রোনালদো বরাবরের মতো উত্তর দেওয়ার জন্য বেছে নিলেন সবচেয়ে পরিচিত মঞ্চটাকেই, ফুটবল মাঠ।

ম্যাচের মাত্র ৬ মিনিটে গোল করে উৎসবে মাতেন তিনি। সেই গোলটি ছিল পর্তুগালের জার্সিতে তার ১৪৪তম আন্তর্জাতিক গোল। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে ছয়টি ভিন্ন আসরে গোল করার অনন্য কীর্তিও গড়ে ফেলেন।

শুধু তাই নয়, বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে গোল করার রেকর্ডটিও নিজের করে নেন এই ফরোয়ার্ড।

এরপর ৩৯তম মিনিটে আসে আরেকটি স্মরণীয় মুহূর্ত। ব্রুনো ফার্নান্দেজের নিখুঁত পাস ধরে দারুণ ফিনিশিংয়ে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের তৃতীয় গোলটি করেন তিনি।

এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে পর্তুগালের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনেও উঠে যান রোনালদো। পেছনে ফেলেন কিংবদন্তি ইউসেবিওকে। ইউসেবিওর ৯ গোল ছাড়িয়ে তার বিশ্বকাপ গোলসংখ্যা এখন ১০।

ফুটবল ইতিহাসে অসংখ্য রেকর্ডের মালিক তিনি। কিন্তু রোনালদোকে আলাদা করে যে বৈশিষ্ট্যটি, তা হয়তো কোনো পরিসংখ্যানে ধরা পড়ে না। সেটি হলো ফিরে আসার ক্ষমতা। সমালোচনা, ব্যর্থতা কিংবা বয়স, কোনো কিছুই তাকে দীর্ঘ সময় আটকে রাখতে পারে না।

হিউস্টনের রাত তাই শুধু দুই গোলের গল্প নয়। এটি ছিল এক কিংবদন্তির আরেকবার উঠে দাঁড়ানোর গল্প। আবারও প্রমাণ করার গল্প, মহানরা হারিয়ে যান না, সময়মতো ঠিকই জানান দেন নিজেদের রাজকীয় উপস্থিতি।

AS
আরও পড়ুন