ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠানে লাল পতাকা ও ব্যানারের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল সবচেয়ে আলোচিত দৃশ্যগুলোর একটি। শিয়া ধর্মীয় ঐতিহ্যে এই লাল পতাকা অন্যায়ভাবে ঝরানো রক্তের প্রতীক এবং নিহত ব্যক্তির রক্তের প্রতিশোধ নেওয়ার আহ্বান হিসেবে বিবেচিত হয়।
রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণে শোকাহতদের হাতে ‘ইয়া লাসারাত আল-হুসাইন’ এবং নতুন করে ব্যবহৃত ‘ইয়া লাসারাত আল-খামেনি’ লেখা লাল পতাকা ও ব্যানার দেখা যায়।
‘ইয়া লাসারাত আল-হুসাইন’ বাক্যটি সপ্তম শতকে কারবালার প্রান্তরে নিহত মহানবী হজরত মুহাম্মদের নাতি ইমাম হুসাইনের স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে। শিয়া মুসলিমদের কাছে ইমাম হুসাইনের শাহাদাত নিপীড়ন ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয় এবং প্রতি বছর তা শোকের সঙ্গে স্মরণ করা হয়।
অন্যদিকে ‘ইয়া লাসারাত আল-খামেনি’ স্লোগানটি সেই ঐতিহাসিক প্রতীককেই নতুনভাবে প্রয়াত খামেনির নামের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এর মাধ্যমে তাকে হত্যার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের আহ্বান জানানো হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ইতিহাসজুড়ে ‘ইয়া লাসারাত আল-হুসাইন’ স্লোগান শিয়া যোদ্ধাদের প্রতিশোধের আহ্বানে ব্যবহৃত হয়ে এসেছে। খামেনির নাম যুক্ত করে একই স্লোগান ব্যবহার করাকে তার হত্যার জবাব দেওয়ার প্রত্যক্ষ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শোকানুষ্ঠানে লাল পতাকার পাশাপাশি ইরানের জাতীয় পতাকা এবং হিজবুল্লাহর প্রতীকসংবলিত হলুদ পতাকাও বহন করতে দেখা যায় অংশগ্রহণকারীদের। সূত্র: আলজাজিরা
বিপুল লোক সমাগমে খামেনির প্রথম জানাজা সম্পন্ন
হরমুজ প্রণালি বহিরাগত শক্তির ক্ষমতা দেখানোর মঞ্চ নয়
সৌদি প্রতিনিধিদের কোরআনের আয়াত দিয়ে কী বার্তা দিলো ইরান