চিরনিদ্রায় শায়িত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি

আপডেট : ১০ জুলাই ২০২৬, ১০:২২ এএম

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন সম্পন্ন হয়েছে। ইরানের সবচেয়ে পবিত্র শিয়া মাজার ‘ইমাম রেজা মাজার’-এ তাকে দাফন করা হয়।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম শুক্রবার (১০ জুলাই) ভোরে জানায়, খামেনির জন্মস্থান মাশহাদ শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ইমাম রেজা মাজারে একটি ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাকে দাফন করা হয়। দাফন অনুষ্ঠানটি ব্যক্তিগত হলেও, এর আগে দেশজুড়ে এক সপ্তাহের রাষ্ট্রীয় শোক ও শোকমিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, খামেনির শেষ বিদায়ে অংশ নিতে রাস্তাগুলোতে প্রায় ১৫ থেকে ৩০ মিলিয়ন (দেড় থেকে তিন কোটি) মানুষের ঢল নামে।

জানাজা ও দাফন প্রক্রিয়ার পুরো আয়োজনে খামেনির ছেলে এবং তার স্থলাভিষিক্ত নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানের কেন্দ্রস্থলে খামেনির কম্পাউন্ডে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পর থেকে মোজতবা আর জনসমক্ষে আসেননি। উল্লেখ্য, ওই হামলার মাধ্যমেই ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধের সূচনা হয়েছিল।

খামেনির দাফন মূলত গত মার্চ মাসে হওয়ার কথা থাকলেও যুদ্ধ শুরু হওয়ায় তা পিছিয়ে যায়। গত শনিবার থেকে তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্সে খামেনির কফিন প্রদর্শনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। সেখানে ইরানের আঞ্চলিক মিত্র হামাস, ইসলামিক জিহাদ, হিজবুল্লাহ এবং হুথিদের আমন্ত্রিত প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এরপর সোমবার রাজধানী তেহরানের আজাদি স্কয়ার অভিমুখে ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ শোকমিছিলে প্রায় ১২ মিলিয়ন মানুষের সমাগম ঘটে। মঙ্গলবার পবিত্র নগরী কোম-এ মিছিল শেষে বুধবার খামেনির কফিন ইরাকের পবিত্র শিয়া নগরী নাজাফ ও কারবালায় নিয়ে যাওয়া হয়। বৃহস্পতিবার কফিনটি মাশহাদে পৌঁছালে সেখানেও লাখো মানুষ কালো পোশাক পরে এবং খামেনির ছবি হাতে নিয়ে ভিড় জমায়।

শোকমিছিলে অংশ নেওয়া জনতা এই হত্যাকাণ্ডের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার দাবি জানায়। তারা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয় এবং নারীরা ‘কিল ট্রাম্প’ (ট্রাম্পকে হত্যা করো) লেখা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করে। শেষ পর্যায়ে ভিড় এতটাই বেশি ছিল যে কফিন বহনকারী ট্রাকটি এগোতে না পারায় হেলিকপ্টারে করে কফিনটি ইমাম রেজা মাজারে নিয়ে যাওয়া হয়। খামেনির সাথে ওই হামলায় নিহত তার পরিবারের আরও চার সদস্যকেও পাশাপাশি দাফন করা হয়।

গত ১৭ জুন যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি প্রাথমিক চুক্তি সই হলেও যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। গত মঙ্গলবার ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে তিনটি ট্যাংকারে হামলা চালানোর পর, মার্কিন বাহিনী টানা দুই রাত ইরানে পাল্টা হামলা চালায়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার আঙ্কারায় ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে ইরানের সাথে যুদ্ধবিরতি চুক্তি শেষ। ইরানকে ‘সহিংস ও পিশাচ’ আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প বলেন, "আমার মতে এটি (চুক্তি) শেষ। আমি তাদের সাথে আর কোনো আলোচনা করতে চাই না।"

ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর ইরানও কুয়েত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডানে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।

খামেনির দাফনের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ইরানের বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রের আশপাশের এলাকা, চোগাদাক শহর এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় কোনারক শহরে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড আল জাজিরাকে জানিয়েছে, গত কয়েক ঘণ্টায় মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানে কোনো হামলা চালায়নি।

সাম্প্রতিক এই পাল্টাপাল্টি হামলা ও উত্তেজনা সত্ত্বেও, কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত পূর্ণ মাত্রার যুদ্ধে জড়ানোর ইচ্ছা দেখায়নি।

সূত্র: আল জাজিরা

YA
আরও পড়ুন