দেশের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে বর্তমানে মিশ্র পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, চাল, আটা এবং কয়েকটি মসলাজাতীয় পণ্যের দাম কিছুটা কমলেও সয়াবিন তেল, ব্রয়লার মুরগি, পেঁয়াজসহ কয়েকটি নিত্যপণ্যের দাম এখনও তুলনামূলক বেশি।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বর্ষাকালে পরিবহন-সংক্রান্ত সমস্যা এবং সরবরাহে বিঘ্নের প্রভাবেই কিছু পণ্যের দামে চাপ তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে মোটা চাল প্রতি কেজি ৫৫ থেকে ৫৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি ও সরু চাল (নাজিরশাইল/মিনিকেট) ব্র্যান্ডভেদে ৬৫ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সাধারণ ক্রেতাদের জন্য স্বস্তির খবর হলো, খোলা আটার দাম কমে প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় নেমে এসেছে।
অন্যদিকে, ডাল ও চিনির বাজারে উচ্চমূল্যের প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। বাজারে চিনি প্রতি কেজি ১০৫ থেকে ১১৫ টাকা এবং মসুর ডাল ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ভোজ্যতেলের বাজারেও মূল্যচাপ স্পষ্ট। খোলা সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১৬৫ থেকে ১৬৭ টাকা এবং বোতলজাত এক লিটার সয়াবিন তেল ১৬৭ থেকে ১৭২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আমিষজাত পণ্যের মধ্যে ব্রয়লার মুরগির দাম প্রতি কেজি ১৭০ থেকে ১৮৫ টাকা। দেশি মুরগি ৫৫০ থেকে ৫৮০ টাকা এবং গরুর মাংস ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ফার্মের ডিমের দাম প্রতি ডজন ১২০ থেকে ১৩০ টাকার মধ্যে রয়েছে।
কাঁচাবাজারেও পণ্যমূল্যে ভিন্নতা দেখা গেছে। আমদানিকৃত রসুন প্রতি কেজি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা, বেগুন ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে দেশি পেঁয়াজের দাম ১০৫ থেকে ১১৫ টাকা এবং শসা ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে পৌঁছেছে।
একজন বিক্রেতা জামিল বলেন, ‘কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির কারণে বাজারে ক্রেতা কম। নতুন পণ্যও নিয়মিত আসছে না। ফলে কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে।’
বাজার করতে আসা সুরাইয়া আহমেদ বলেন, ‘দুই দিন বৃষ্টির কারণে বাজারে আসতে পারিনি। এখন বাজারে সব ধরনের সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। বৃষ্টির কারণে বাজারের পরিবেশও এমন যে চলাচল করতে কষ্ট হচ্ছে।’
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বর্ষাকালীন পরিবহন-সংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা এবং কিছু ক্ষেত্রে কৃত্রিম সংকটের কারণে কয়েকটি নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। তবে চাল ও আটার দাম নিয়ন্ত্রণে থাকায় সাধারণ ভোক্তারা কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন।
এদিকে, ভোক্তাদের সহায়তায় টিসিবি ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপণ্য বিক্রি অব্যাহত রয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১১০ টাকা, মসুর ডাল প্রতি কেজি ৭০ টাকা এবং চিনি প্রতি কেজি ৬০ টাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বাজার স্থিতিশীল রাখতে নিয়মিত তদারকি ও কার্যকর নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের নতুন পরিচালক কে এম জাকারিয়া
চলতি অর্থবছরে ৪.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে
মার্কিন-ইরান উত্তেজনায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী