বিশ্বকাপের পরিধি আরও বাড়ানোর পথে হাঁটছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। প্রথমবারের মতো ৪৮ দলের বিশ্বকাপ আয়োজনের পর এবার শতবর্ষী ২০৩০ বিশ্বকাপকে ৬৪ দলের আসরে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছে সংস্থাটি। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর মতে, বিশ্বকাপ কেবল ঐতিহ্যবাহী শক্তিধর দেশগুলোর নয়, বরং পুরো বিশ্বের টুর্নামেন্ট। তাই আরও বেশি দেশের জন্য দরজা খুলে দেওয়ার সময় এসেছে।
সুইজারল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম ব্লুউইন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইনফান্তিনো জানান, চলমান বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পরই ফিফার সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো ৬৪ দলের বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তাব নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা করবে। তার ভাষায়, এটি এমন একটি বিষয়, যা গুরুত্বের সঙ্গেই পর্যালোচনা করা হবে।
ইনফান্তিনো মনে করেন, এবারের বিশ্বকাপে তুলনামূলক ছোট দলগুলোর পারফরম্যান্সই প্রমাণ করেছে যে বিশ্ব ফুটবলের মান আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠেছে। কেপ ভার্দের মতো দল বড় প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দেখিয়েছে, সুযোগ পেলে তথাকথিত ছোট দলও নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে পারে।
তিনি বলেন, প্রতিটি দেশেরই বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন দেখার অধিকার রয়েছে। আর সেই সুযোগ না দিলে অনেক দেশের ফুটবল উন্নয়নের প্রেরণাও কমে যাবে। তার মতে, অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়লেই বিশ্ব ফুটবল আরও বিস্তৃত ও প্রতিযোগিতামূলক হবে।
ফুটবল বিশ্লেষকদের ধারণা, ৬৪ দলের বিশ্বকাপ হলে ১৬টি গ্রুপে চারটি করে দল রাখা হতে পারে। সেক্ষেত্রে প্রতিটি গ্রুপ থেকে শীর্ষ দুই দল সরাসরি শেষ ৩২-এ উঠবে। এতে টুর্নামেন্টের কাঠামো তুলনামূলক সহজ হলেও ম্যাচের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াতে পারে ১২৮-এ।
তবে এমন বিশাল আয়োজন পরিচালনা করা সহজ হবে না। ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে তিন মহাদেশের ছয়টি দেশে, উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা, প্যারাগুয়ে, মরক্কো, পর্তুগাল ও স্পেনে। এত বিস্তৃত ভৌগোলিক পরিসরে ৬৪ দলের টুর্নামেন্ট আয়োজন লজিস্টিক, ভ্রমণ, সূচি ও অবকাঠামোগত দিক থেকে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এই প্রস্তাবটি প্রথম ফিফার কাছে তোলে দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল কনফেডারেশন (কনমেবল)। তাদের বিশ্বাস, বিশ্বকাপের শতবর্ষী আসরকে আরও বেশি দেশের অংশগ্রহণে বৈশ্বিক উৎসবে পরিণত করার এটিই সবচেয়ে উপযুক্ত সময়।
তবে পরিকল্পনাটি নিয়ে ফুটবল অঙ্গনে মতভেদও রয়েছে। উয়েফা সভাপতি আলেকজান্ডার সেফেরিনসহ অনেকেই ৬৪ দলের বিশ্বকাপের ধারণাকে সমর্থন করেননি। তাদের আশঙ্কা, দলসংখ্যা অতিরিক্ত বাড়লে বিশ্বকাপের প্রতিযোগিতার মান কমে যেতে পারে, একই সঙ্গে গুরুত্ব হারাতে পারে আঞ্চলিক বাছাইপর্বও।
৩২ থেকে ৪৮ দলে সম্প্রসারণকে ফিফা সফল পদক্ষেপ হিসেবে দেখালেও, ৬৪ দলের বিশ্বকাপ বাস্তবায়ন হবে কি না, তা এখন নির্ভর করছে সংস্থাটির আসন্ন আলোচনার ওপর। শতবর্ষী বিশ্বকাপ আরও বেশি দেশের অংশগ্রহণে নতুন ইতিহাস গড়বে, নাকি অতিরিক্ত সম্প্রসারণ নিয়ে বিতর্কই আরও জোরালো হবে, এখন নজর সেদিকেই।
জিতছে ইংল্যান্ড, তবু খুশি নন কোচ
বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর জুয়ায় মত্ত নেইমার
আমরা জানতাম, আমাদের কষ্ট করতে হবে: স্কালোনি