বন্যা-পাহাড় ধসে মৃত্যু বেড়ে ৫৪, পানিবন্দি দেড় লাখের বেশি পরিবার

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২৬, ১০:১২ এএম

অতিবর্ষণ, পাহাড়ি ঢল, বন্যা ও ভূমিধসে দেশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৪ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে দেশের ৭টি জেলায় এখনো পানিবন্দি রয়েছে দেড় লাখের বেশি পরিবার। এসব এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৬ লাখ ৯ হাজার ৪১১ জনে পৌঁছেছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত বন্যা পরিস্থিতির হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ-এই সাত জেলা এখনো বন্যাকবলিত। সরকারি হিসাবে, এসব জেলার ৫৯টি উপজেলা, ৩৩৪টি ইউনিয়ন এবং ১২টি পৌরসভা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে কক্সবাজারে। জেলাটিতে এখন পর্যন্ত ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৮ জন স্থানীয় বাসিন্দা এবং ১৩ জন রোহিঙ্গা। এ ছাড়া আহত হয়েছেন ২৪ জন এবং একজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

অন্যান্য জেলার মধ্যে চট্টগ্রামে ১৩ জন, বান্দরবানে ৬ জন, রাঙামাটিতে ৩ জন এবং মৌলভীবাজারে একজনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য ৭ জেলায় মোট ১ হাজার ৪৯টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে এখন পর্যন্ত ৩৮ হাজার ৪২২ জন আশ্রয় নিয়েছেন।

সবচেয়ে বেশি ৪১৫টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে চট্টগ্রামে। সেখানে অবস্থান করছেন ১৬ হাজার ৮২১ জন। বান্দরবানের ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন ৫ হাজার ১৩৪ জন, রাঙামাটির ৪৭টি কেন্দ্রে ৩ হাজার ৪৮৭ জন, কক্সবাজারের সাতটি কেন্দ্রে ৪ হাজার ১৩১ জন এবং মৌলভীবাজারের ১৪টি কেন্দ্রে ১ হাজার ২৪ জন অবস্থান করছেন।

খাগড়াছড়িতে ১৫০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হলেও সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন ৭৪ জন। হবিগঞ্জের দুটি আশ্রয়কেন্দ্রে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আশ্রিত মানুষের তথ্য পাওয়া যায়নি।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এ পর্যন্ত সাত জেলার জন্য মোট ৮ হাজার ৯৫০ টন চাল এবং ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা নগদ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শুকনো খাবারসহ অন্যান্য ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে।

জেলাভিত্তিক বরাদ্দের মধ্যে চট্টগ্রামে ১ হাজার ২০০ টন চাল ও ৬৫ লাখ টাকা, কক্সবাজারে ৪৫০ টন চাল ও ৩০ লাখ টাকা, রাঙামাটিতে ৫০০ টন চাল ও ২৫ লাখ টাকা এবং বান্দরবানে ৪০০ টন চাল ও ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া খাগড়াছড়িতে ৪০০ টন চাল ও ২০ লাখ টাকা, মৌলভীবাজারে ২০০ টন চাল ও ১০ লাখ টাকা এবং হবিগঞ্জে ১০০ টন চাল ও ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজারে এ পর্যন্ত ৩৬৩ টন চাল ও ৪৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। রাঙামাটিতে ২৯৫ টন চাল ও ২০ লাখ টাকা এবং বান্দরবানে ৬৮ টন চাল ও ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে।

NM/YA
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত