ইরান যুদ্ধের সমাধানে পথ খুঁজছেন ট্রাম্প

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী সব ধরনের জাহাজের ওপর ২০ শতাংশ শুল্কারোপের সিদ্ধান্ত থেকে এক দিনের মধ্যেই সরে এসেছেন। এর পরিবর্তে উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে ‘বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তি’ করার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের এ দ্রুত সিদ্ধান্ত পরিবর্তনকে স্বাভাবিকভাবে দেখছেন না আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা। তাঁদের মতে, ইরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো রূপরেখা দেখা যাচ্ছে না।

চার মাসেরও বেশি সময় ধরে ইরানের সঙ্গে সামরিক সংঘাতে জড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রায় এক মাস আগে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়, যার মাধ্যমে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পাশাপাশি শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল।

তবে গত জুনে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ইরানের পক্ষ থেকে আসার পর এর বিরোধিতা করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। এরপর কয়েক দফা আলোচনা হলেও যুদ্ধের স্থায়ী সমাধানের কোনো অগ্রগতি এখনো দেখা যায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান বর্তমানে কোনো ছাড় দেওয়ার অবস্থানে নেই। সামরিক অভিযানে ইরানের কয়েকটি জাহাজ, বিমান ও স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতি ঘটানো সম্ভব হলেও রাজনৈতিক সমাধানের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র এখনো বড় চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।

সামরিকভাবে দুর্বল করা গেলেও হরমুজ প্রণালিতে ইরানের প্রভাব এখনো বহাল রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র যদি ওই অঞ্চলে সামরিক অভিযান আরও ব্যাপকভাবে না বাড়ায়, তাহলে ইরানকে চাপের মুখে ফেলা কঠিন হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তাঁদের ধারণা, ট্রাম্প সম্ভবত ২০১৫ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসনের করা পারমাণবিক চুক্তির চেয়ে ‘আরও ভালো’ কোনো সমাধান চান। এ কারণেই চলমান সংকট থেকে বের হওয়ার জন্য তিনি প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে নতুন কৌশল অনুসন্ধান করছেন।

হরমুজ প্রণালিতে শুল্কারোপের ঘোষণা দিয়ে আবার তা প্রত্যাহার করাও সেই কৌশলের অংশ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। তবে এতে একটি বিষয় স্পষ্ট হচ্ছে-ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে এখনো কোনো সুস্পষ্ট পথরেখা নেই।

এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের সামনে মূলত দুটি পথ রয়েছে। একটি হলো ইরানে সামরিক তৎপরতা আরও বাড়ানো, যা সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মূল্য দিতে হতে পারে।

অন্য বিকল্প হলো, ইরানের জন্য তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো। তবে কোন পথ বেছে নেবেন ট্রাম্প, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

NM/YA
আরও পড়ুন