জিয়াউর রহমানকে গুলি করেন মোজাফফর, আত্মগোপনে ছিলেন ভারতে

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৬:০৩ পিএম

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে পলাতক থাকা আসামি অবসরপ্রাপ্ত মেজর মো. মোজাফফর হোসেনকে আটক করেছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ডিবি জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর কোর্ট মার্শালের কার্যক্রমের জন্য মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হবে।

মামলার নথি ও তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডে মোজাফফর হোসেন সরাসরি অংশ নেন। তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনিই প্রথম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে শনাক্ত করেন এবং তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার পর তিনি চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ২৪ পদাতিক ডিভিশনের তৎকালীন জিওসি মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরকে টেলিফোনে রাষ্ট্রপতি নিহত হওয়ার তথ্য জানান।

১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে বিদ্রোহী সেনা কর্মকর্তাদের হামলায় তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হন। ওই ঘটনায় অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেন ও ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিনের নাম উঠে আসে।

হত্যাকাণ্ডের পর সেনাবাহিনীর অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আবুল মঞ্জুর নিহত হন। ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। তবে মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেন এবং মেজর এস. এম. খালেদ দীর্ঘদিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পলাতক অবস্থায় মোজাফফর হোসেন দীর্ঘ সময় ভারতে আত্মগোপনে ছিলেন। ১৯৯৭ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত তিনি সেখানে অবস্থান করেন। পরবর্তী সময়ে ছদ্মনাম ব্যবহার করে সীমান্ত অতিক্রম করে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করেছেন বলেও তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।

Attr
আরও পড়ুন