সৌদির বিরুদ্ধে ইয়েমেনের নতুন কৌশল : বিপাকে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার

আপডেট : ২২ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৩ এএম

পশ্চিমা জোটের সমর্থনপুষ্ট দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক শৃঙ্খল ভাঙতে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নতুন পাল্টা পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে ইয়েমেন।

ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনী ‘অবরোধের বদলে অবরোধ’ নীতি গ্রহণ করে রিয়াদের সব ধরনের সামুদ্রিক জাহাজ চলাচলে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

ইয়েমেনের এই আকস্মিক নৌ অবরোধের তীব্র নিন্দা জানিয়ে পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিয়েছে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নিজেদের বাণিজ্যিক জাহাজ রক্ষা করতে রিয়াদ প্রয়োজনীয় যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

নতুন এই উত্তেজনার ফলে লোহিত সাগরের কৌশলগত পয়েন্ট ‘বাব আল-মান্দাব প্রণালী’ বন্ধ হওয়ার বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়েছে। কৌশলগত কারণে বাব আল-মান্দাব অবরুদ্ধ হলে সৌদি আরবের পাশাপাশি পুরো বিশ্ব বাণিজ্যে মারাত্মক ধস নামতে পারে।

ইয়েমেনি হুথি (আনসারুল্লাহ) বাহিনীর এই কৌশল বাস্তবায়িত হলে ২০১৫ সালের পর প্রথমবারের মতো সৌদি বন্দরগুলোতে তেল ট্যাঙ্কার ভিড়তে পারবে না।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এতে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

বিশেষ করে ইয়ানবু বন্দরের মাধ্যমে পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনে প্রতিদিনের ৭০ লক্ষ ব্যারেল তেল রপ্তানি পুরোপুরি থমকে যেতে পারে। মাত্র কয়েকদিনের জন্য এই সরবরাহ বন্ধ হলেও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে এক অভূতপূর্ব অস্থিরতা ও সংকট দেখা দেবে।

অন্যদিকে, সৌদির প্রায় ৭০ শতাংশ আমদানি ও বাণিজ্য কার্যক্রম নিয়ন্ত্রিত হয় জেদ্দা বন্দরের মাধ্যমে। হরমুজ প্রণালীর পাশাপাশি জেদ্দা বন্দর স্থবির হয়ে পড়লে কাতার, কুয়েত ও বাহরাইনের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর সরবরাহ শৃঙ্খল পুরোপুরি ভেঙে পড়বে।

ইয়েমেন এটিকে নিজেদের আত্মরক্ষা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার অধিকার হিসেবে দেখছে। তারা পরিষ্কার জানিয়েছে, যেসব দেশ তাদের ওপর চালানো অবরোধে সৌদি জোটকে সমর্থন করবে, তাদের জাহাজও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি আর কেবল সীমান্ত যুদ্ধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার সমীকরণে বড় পরিবর্তন এনেছে। ইয়েমেনের এই নজিরবিহীন পদক্ষেপ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরাশক্তিগুলোর অর্থনৈতিক হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিতে বাধ্য করবে।

সোর্স / তথ্যসূত্র: ইয়েমেনীয় সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্রের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি, সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া এবং বৈশ্বিক সামুদ্রিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ।

HN
আরও পড়ুন