ইয়েমেনে হুথি-সরকারি বাহিনীর সংঘর্ষে নিহত ৮১

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪০ পিএম

ইয়েমেনের তাইজ ও লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকায় হুথি বিদ্রোহী এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর মধ্যে তীব্র সংঘর্ষে অন্তত ৮১ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হওয়া লড়াইয়ে নিহতদের মধ্যে অন্তত ৪২ জন হুথি যোদ্ধা রয়েছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

এএফপি দুই সামরিক কর্মকর্তা ও চিকিৎসা সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকায় সরকারি বাহিনীর ২৪ সদস্য নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, তাইজের অভ্যন্তরীণ এলাকায় আরও ১৫ সরকারি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।

হুথি-নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোর চিকিৎসা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষে অন্তত ৪২ জন হুথি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। তবে উভয় পক্ষের হতাহতের এসব সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

বৃহস্পতিবার হুথি বাহিনী লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকা এবং তাইজ অঞ্চলের আশপাশে স্থল অভিযান শুরু করার পর সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। স্থল হামলার পাশাপাশি হুথিরা রকেট ও ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালায় বলে ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

ইয়েমেনের সেনাবাহিনীর মিডিয়া সেন্টারের দাবি, হুথিরা তাইজ ও হোদেইদা প্রদেশের জনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলো লক্ষ্য করে ১৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং কয়েকটি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। সরকারি বাহিনীও পাল্টা অভিযান চালিয়েছে।

সরকারি বাহিনীর পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, সংঘর্ষে ১৮ জনের বেশি হুথি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন এবং কয়েকজন আহত বা আটক হয়েছেন। তবে এএফপির পৃথক সামরিক সূত্রগুলো আরও বেশি হতাহতের তথ্য দিয়েছে।

তাইজ ইয়েমেনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও দীর্ঘদিন ধরে সংঘাতপ্রবণ অঞ্চল। দেশটির গৃহযুদ্ধের সময় থেকে শহরটি ও এর আশপাশের এলাকায় সরকারি বাহিনী এবং হুথিদের মধ্যে সংঘর্ষ চলে আসছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দেশটির প্রায় স্থবির হয়ে থাকা বিভিন্ন সম্মুখসারিতেও আবার গোলাগুলি ও ড্রোন হামলা বাড়ছে।

লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকাগুলোও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই অঞ্চল দিয়ে আন্তর্জাতিক নৌপথের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ পরিচালিত হয়। ফলে সেখানে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে তা শুধু ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ সংঘাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

এদিকে ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলে হুথিদের সম্ভাব্য বড় ধরনের সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিয়েও সাম্প্রতিক সময়ে খবর এসেছে। এর আগে এএফপি-কে হুথি সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছিল, তাইজ ও হোদেইদা প্রদেশের সম্মুখসারিতে প্রায় দুই হাজার যোদ্ধা ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে।

নতুন করে সংঘর্ষ তীব্র হওয়ায় ইয়েমেনের দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধ আবারও বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনার দিকে যাচ্ছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বেসামরিক এলাকাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

তবে সর্বশেষ সংঘর্ষে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা কিংবা ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনো স্পষ্ট নয়। উভয় পক্ষের সামরিক দাবি এবং স্থানীয় সূত্রের দেওয়া তথ্যের মধ্যে পার্থক্য থাকায় হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা নিশ্চিত করতে আরও স্বাধীন তথ্যের প্রয়োজন

ওয়াইএ
আরও পড়ুন