ইরানের ভয়ে সেনাদের মোবাইল ফোন কেড়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র!

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২৬, ১১:১৫ এএম

ইরানের গোয়েন্দা সক্ষমতা এবং সাইবার নজরদারি নিয়ে উদ্বেগ বেড়ে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন ব্যবহারে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে সেনাদের ব্যক্তিগত স্মার্টফোন সাময়িকভাবে জব্দও করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, সাধারণ একটি স্মার্টফোন থেকেই সেনাদের অবস্থান, চলাচলের রুট, সামরিক ঘাঁটির অবস্থান কিংবা গুরুত্বপূর্ণ অভিযানসংক্রান্ত তথ্য ফাঁস হয়ে যেতে পারে।

জিপিএস, ব্লুটুথ, ওয়াই-ফাই এবং বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে অনিচ্ছাকৃতভাবেই সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রতিপক্ষ গোয়েন্দা সংস্থা বা হ্যাকাররা গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের নাগাল পেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরান শুধু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রযুক্তিতেই নয়, সাইবার সক্ষমতাতেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র এখন সম্ভাব্য তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি কমাতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে মোবাইল ফোন ব্যবহারে কড়াকড়ি আরোপ করছে।

সামরিক বিশ্লেষকদের ভাষ্য, যুদ্ধক্ষেত্রে সেনাদের ব্যক্তিগত স্মার্টফোন ব্যবহার নতুন কোনো বিতর্ক নয়। অতীতেও ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধসহ বিভিন্ন সংঘাতে দেখা গেছে, মোবাইল ফোনের লোকেশন ডেটা বিশ্লেষণ করে সেনাদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসাবধানতাবশত প্রকাশিত ছবি বা ভিডিও থেকেও সামরিক ঘাঁটি ও অস্ত্র মোতায়েনের তথ্য বের করে আনার নজির রয়েছে।

এই বাস্তবতায় অনেক সেনাকে শুধুমাত্র অনুমোদিত নিরাপদ যোগাযোগযন্ত্র ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। কিছু ঘাঁটিতে ব্যক্তিগত ফোন নির্দিষ্ট স্থানে জমা রাখারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর উদ্দেশ্য সেনাদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা সীমিত করা নয়; বরং গোটা সামরিক বাহিনীকে সম্ভাব্য সাইবার ও গোয়েন্দা হুমকি থেকে সুরক্ষিত রাখা।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতের যুদ্ধ হবে প্রযুক্তিনির্ভর এবং তথ্যনির্ভর। সেখানে একটি অসতর্ক মোবাইল ফোনও শত্রুপক্ষের জন্য মূল্যবান গোয়েন্দা সম্পদে পরিণত হতে পারে। তাই আধুনিক সেনাবাহিনীগুলো শুধু অস্ত্রশস্ত্র নয়, ডিজিটাল নিরাপত্তাকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন। সেনাদের হাতে থাকা স্মার্টফোন এখন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে

Maz/YA
আরও পড়ুন