মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব অতীতে কখনোই ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো একজন মার্কিন প্রেসিডেন্টের মুখোমুখি হয়নি। তার দাবি, ট্রাম্পের দৃঢ় অবস্থান ও সামরিক পদক্ষেপের কারণে ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়েছে এবং সেই কারণেই তেহরান এখন পারমাণবিক কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে আলোচনায় আগ্রহ দেখাচ্ছে।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেন, গত দুই থেকে তিন দশক ধরে ইরান আন্তর্জাতিক চুক্তি ভঙ্গ ও তথ্য গোপনের মতো কর্মকাণ্ডের পরও কঠোর জবাব এড়িয়ে যেতে পেরেছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন সেই ধারা বদলে দিয়েছে।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক মার্কিন হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদিও দেশটির হাতে এখনো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন রয়েছে এবং তারা ক্ষতি করার সক্ষমতা রাখে, তবুও তাদের প্রচলিত সামরিক সুরক্ষা অনেকটাই ভেঙে পড়েছে।
রুবিওর ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র এখন শক্তিশালী অবস্থান থেকে ইরানের সঙ্গে কথা বলছে। এ কারণেই তেহরান পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে সমঝোতায় আগ্রহী হয়ে উঠেছে।
তিনি আরও বলেন, ইরান দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের আদর্শ ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। সেই নীতি বদলাতে হলে তাদের এমন মূল্য দিতে বাধ্য করতে হবে, যা বহন করা তাদের পক্ষে সম্ভব হবে না।
রুবিওর এই মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে দ্রুত সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় পরিকল্পিত সামরিক হামলা স্থগিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ইসরায়েলও এই সিদ্ধান্তে সম্মতি দিয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, সম্ভাব্য সমঝোতার অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত রাখা এবং ইরানের পারমাণবিক হুমকি বন্ধ করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, ইরান দ্রুত চুক্তিতে না এলে হামলা স্থগিতের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হতে পারে। সূত্র: ফক্স নিউজ
সংঘাত ও সংলাপ, দুই পথই খোলা রাখছে ইরান
ট্রাম্প-মোহাম্মদ বিন সালমান ফোনালাপ, কূটনৈতিক সমাধানে জোর
ইরানে নতুন হামলা স্থগিত করলো যুক্তরাষ্ট্র