মেয়ের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ

আড়াই মাস পর কবর থেকে পিতার মরদেহ উত্তোলন

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০২:১৯ পিএম

ব্যাংকে রাখা প্রায় ১৮ লাখ টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে অসুস্থ বৃদ্ধ বাবাকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার নিজেরই মেয়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিহতের আরেক মেয়ের দায়ের করা হত্যা মামলার আড়াই মাস পর আদালতের নির্দেশে ময়নাতদন্তের জন্য ওই বৃদ্ধের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করেছে প্রশাসন।

ঘটনাটি ঘটেছে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায়।

বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুল ইসলাম হাবিব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার নলডাঙ্গা এলাকার কবরস্থান থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোস্তাফিজুর রহমানের উপস্থিতিতে মরদেহটি উত্তোলন করা হয়।

নিহত বৃদ্ধের নাম তৈয়ব আলী সরকার। তাঁর বাড়ি সাদুল্লাপুর উপজেলার তালুক সাহাবাজ গ্রামে। গত ২৩ জুন তাঁর বড় মেয়ে কহিনুর বেগম (৬০) বাদী হয়ে ছোট বোন রহিমা বেগমসহ (৪৫) চারজনের নাম উল্লেখ করে আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও দুজনকে আসামি করা হয়েছে।

এজাহারভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন রহিমা বেগমের মেয়ে সুমাইয়া আক্তার (২৫), সুমাইয়া আক্তারের স্বামী হামিদুল ইসলাম (৩৫) এবং নলডাঙ্গা ইসলামী ব্যাংকের ম্যানেজার সোহাগ মিয়া।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, তৈয়ব আলীর নলডাঙ্গার ইসলামী ব্যাংক শাখায় প্রায় ১৮ লাখ টাকা জমা ছিল। ওই টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে ছোট মেয়ে রহিমা বাবার চেক বই চুরি করেন। চেক বই হারানোর বিষয়টি বুঝতে পেরে ২০২৫ সালের ১২ জানুয়ারি বৃদ্ধ ব্যাংকে লিখিতভাবে জানান এবং তাঁর হিসাব থেকে কেউ টাকা তুলতে এলে যেন তা না দেওয়া হয়, সে বিষয়েও অনুরোধ করেন।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, জোরপূর্বক স্বাক্ষর নিয়ে টাকা উত্তোলনের বিষয়টি বৃদ্ধ যেন কাউকে জানাতে না পারেন, সেই আশঙ্কা থেকে চলতি বছরের ১৯ মে রাত ১১টার দিকে রহিমা অন্যান্য আসামিদের সহায়তায় বাবাকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। হত্যার পর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে দ্রুত তাঁর দাফন সম্পন্ন করা হয়।

এ বিষয়ে সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুল ইসলাম হাবিব বলেন, ‘উত্তোলনের পর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি প্রথমে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। পরে উন্নত ময়নাতদন্তের স্বার্থে আজ বুধবার সকালে সেটি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে এবং সে অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

MCH
আরও পড়ুন