আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের ওপর পাকিস্তানের নতুন বিধিনিষেধ

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৭:২৫ পিএম

পাকিস্তানে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের কার্যক্রমে নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ইসলামাবাদ, করাচি ও লাহোর ছাড়া দেশের অন্য যেকোনো এলাকায় সংবাদ সংগ্রহের আগে বিদেশি সংবাদমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের সরকারি অনুমতি নিতে হবে।

বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

নতুন ফরেন মিডিয়া ফ্যাসিলিটেশন গাইডলাইনস–২০২৬ অনুযায়ী, বিদেশি সংবাদমাধ্যমে কর্মরত পাকিস্তানি নাগরিক, ফ্রিল্যান্সার ও স্থানীয় সহযোগীরাও নির্ধারিত তিন শহরের বাইরে সংবাদ সংগ্রহে গেলে নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (এনওসি) নিতে বাধ্য থাকবেন।

পাকিস্তান সরকার দাবি করেছে, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সীমিত করার জন্য নয়, বরং বিদেশি গণমাধ্যমের কার্যক্রম যাচাই, সমন্বয় ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার জন্যই এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

তবে সাংবাদিক সংগঠন ও গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এ পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষক মুস্তাফা নওয়াজ খোখর বলেন, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের স্বাধীন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হলে ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণার সুযোগ আরও বাড়বে।

ডন পত্রিকার সম্পাদক জাফর আব্বাস বলেন, চার দশকের সাংবাদিকতা জীবনে সামরিক ও বেসামরিক নানা সরকারের সময় কাজ করলেও এমন কঠোর বিধিনিষেধ আগে দেখেননি। তার মতে, তিনটি শহরের বাইরে যেতে অনুমতির বাধ্যবাধকতা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও চলাচলের অধিকারকে খর্ব করবে।

নতুন নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, পাকিস্তানের আদর্শ, সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা বা জনশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে কোনো সাংবাদিকের স্বীকৃতি বাতিল করা যেতে পারে। সমালোচকদের মতে, এই শর্তের ভাষা অস্পষ্ট এবং এর অপব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে।

সম্প্রতি পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সহিংস বিক্ষোভ ও স্থানীয় নির্বাচন ঘিরে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন প্রকাশের পরই এ সিদ্ধান্ত আসে। ইতোমধ্যে ওই অঞ্চলে অবস্থানরত বিদেশি সাংবাদিকদের দ্রুত ফিরে গিয়ে নতুন করে এনওসি নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সূত্র: বিবিসি

AS
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত