তালতলীতে খাল খননে ভাগ্য ফিরছে কৃষকদের

আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৩৬ পিএম

একসময় পলি আর কচুরিপানায় আটকে থাকা খাল গুলোর বুকজুড়ে ছিল স্থবিরতা । বর্ষায় জলাবদ্ধতা, শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানির সংকট এই দুই মৌসুমেই দুর্ভোগ ছিল তালতলীর কৃষকদের নিত্যসঙ্গী। সেই চিত্র এখন বদলাতে শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেশব্যাপী খাল পুনঃখনন কর্মসূচির আওতায় বরগুনার তালতলী উপজেলার বড়বগী ও বড় ভাইজোড়া খালের প্রায় ৫ কিলোমিটার পুনঃখননের পর ফিরেছে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ। এতে হাজারো কৃষকের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও সেচ সংকট কমার পাশাপাশি প্রাণ ফিরছে জলজ পরিবেশে। একই সঙ্গে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, কার্বন শোষণ, সবুজায়ন ও টেকসই কৃষির সম্ভাবনাও উন্মোচিত হচ্ছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেশব্যাপী খাল পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির’ আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উপজেলার বড়বগী এবং বড় ভাইজোড়া খালের ৫ কিলোমিটার পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১ কোটি ২৮ লাখ ৭৮ হাজার ৫৩৭ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বড়বগী ইউনিয়নের ছাতন পাড়া এলাকার মোশাররফ হোসেন খানের বাড়ি থেকে শুরু হয়ে খাজুরা কালভার্ট অতিক্রম করে ছোটবগী ইউনিয়নের বলের তবক এলাকার ওয়াজেদ কমিশনারের বাড়ি পর্যন্ত বিস্তৃত।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার বড়বগী এবং বড় ভাইজোড়া খালটি অনিয়ন্ত্রিত দখল, দূষণ ও পলি জমে ভরাট অবস্থায় পড়ে ছিল। ফলে শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানির চরম সংকট তৈরি হতো এবং কৃষকরা বছরে মাত্র একটি ফসল ফলাতে পারতেন। অন্যদিকে, বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনের পথ না থাকায় বিস্তীর্ণ ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে ফসল নষ্ট হতো। একইসঙ্গে জরাজীর্ণ সড়ক যোগাযোগের কারণে উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে আনা-নেওয়াতেও পোহাতে হতো ভোগান্তি। খালটি পুনঃখননের ফলে এখন খরা মৌসুমে স্বল্প খরচে সেচ সুবিধা ও বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা দূর হয়েছে।

পাশাপাশি খালের দুই পাড়ে তৈরি করা হয়েছে নতুন রাস্তা এবং রোপণ করা হয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ, যা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি যাতায়াত ও পণ্য পরিবহন সহজ করেছে। পরিবেশ সংরক্ষণ, কার্বন শোষণ ও সবুজায়নের মাধ্যমে এটি টেকসই কৃষিব্যবস্থা গড়ে তুলতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

স্থানীয় কৃষক ও শ্রমিক জব্বার শরীফ, মোয়াজ্জেম মৃধা, রিপন মৃধা, দুলাল হাওলাদার জানান, ‘সেচ সুবিধা নিশ্চিত হওয়ায় এখন বছরে দুই থেকে তিনবার ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হবে। এতে কৃষি উৎপাদন যেমন বাড়বে, তেমনি অর্থনৈতিকভাবেও লাভবান হবেন তারা।

শুধু কৃষকই নন, খাল পুনঃখনন কাজে স্থানীয় কার্ডধারী শ্রমিকদেরও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। এই প্রকল্প শ্রমিক পরিবারের আয়-রোজগারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।’

বড়বগী ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য সোহেল আকন বলেন, ‘খাল পুনঃখননের ফলে কৃষিখাতে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে। এক ফসলি জমি দুই থেকে তিন ফসলিতে রূপান্তরিত হবে। এতে কৃষি উৎপাদন বাড়বে, বেকারত্ব কমবে। পাশাপাশি স্থানীয় কার্ডধারী শ্রমিকদেরও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।’

এবিষয়ে তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দেশব্যাপী খাল পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৫ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হয়েছে। যা, কৃষি ও মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধি এবং জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি খালের দুই পাশে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে একটি পরিবেশবান্ধব সবুজ বলয় তৈরি করা হচ্ছে।’

MCH
আরও পড়ুন