বুড়িগঙ্গা ও তুরাগের দূষণ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে : পরিবেশমন্ত্রী

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৫৭ পিএম

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, বুড়িগঙ্গা ও তুরাগের দূষণ বন্ধে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। 

তিনি বলেন, ঢাকার চারপাশের নদী দূষণমুক্ত করতে শিল্প মালিকদের সহযোগিতা প্রয়োজন। কারখানার দূষিত পানি খাল বা নদীতে যেন না পড়ে সেজন্য ইটিপি স্থাপন করা জরুরি। 

বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে ঢাকার চারপাশের বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদী এবং নদী-সংযুক্ত খালসমূহে পতিত শিল্প, পয়ঃ ও অন্যান্য বর্জ্যজনিত দূষণ নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও অংশীজনের সমন্বয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম ও প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, দেশের সম্পদ সৃষ্টি করা ব্যবসায়ীদের দায়িত্ব। দেশে আরো কল-কারখানা বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশ দূষণের বিষয়টিও খেয়াল রাখা জরুরি। সমন্বিতভাবে কোনো কাজ না করলে, তা টেকসই হয় না।

দেশের শীর্ষ শিল্প মালিক সংগঠন বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, এফবিসিসিআই এর পক্ষ থেকে বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরা হয়। এর জবাবে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, কেন্দ্রীয়ভাবে ইটিপি করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। অন্যায়ভাবে ব্যবসায়ীদের হয়রানি করলে সেটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। ইটিপিতে ব্যবহৃত কেমিক্যাল আমদানিতে শুল্ক কমানো বা শূন্যে নামিয়ে আনতে চেষ্টা করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বপ্ন বুড়িগঙ্গাকে লন্ডনের টেমস নদীর মতো রূপান্তর করা। সবাই মিলে কাজ করলে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ বা শীতলক্ষ্যাকে টেমস নদীর মতো করে গড়ে তোলা সম্ভব। সেজন্য বুড়িগঙ্গার পানি দূষণমুক্ত করার পাশাপাশি তুরাগের উজানের নদী দূষণ রোধেও কাজ করা হবে। তিনি আরো বলেন, গাবতলী ও আশুলিয়ায় নদীর উপর ঝুলন্ত ব্রিজ তৈরি করা হবে এবং পর্যটকদের বিনোদনের জন্য জাহাজ পরিচালনা করা হবে। 

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে সভায় ‘বুড়িগঙ্গা নদীর দূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন রূপরেখা’ উপস্থাপন করা হয়। এতে জানানো হয়, বুড়িগঙ্গা নদীর দূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মুখ্য সচিবের নেতৃত্বে একটি কেন্দ্রীয় সেল গঠনের নির্দেশনা দিয়েছেন।

উপস্থাপিত তথ্যে বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদীতে মোট ২২৪টি বর্জ্য নিঃসরণের উৎসমুখ চিহ্নিত করার কথা জানানো হয়। এর মধ্যে বুড়িগঙ্গায় ১৬৬টি এবং তুরাগে ৫৮টি উৎসমুখ রয়েছে। বিভিন্ন বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ঢাকা ওয়াসা, সিটি কর্পোরেশন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে এসব উৎসমুখ সংশ্লিষ্ট।

সভায় শিল্পবর্জ্যের উৎসভিত্তিক তালিকা তৈরি, শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কার্যকর ইটিপি স্থাপন ও পরিচালনা নিশ্চিত করা, অনুমোদনহীন ড্রেন শনাক্ত ও বন্ধ করা এবং খাল ও ড্রেন থেকে বর্জ্য অপসারণ করে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। খাল ও ড্রেনেজের পাশে প্রয়োজন অনুযায়ী STP, ETP ও Waste-to-Energy Plant স্থাপনে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের বিষয়টিও কর্মপরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সভায় বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদীর দূষণ নিয়ন্ত্রণে শিল্পবর্জ্যসহ সকল বর্জ্যের উৎসমুখ বন্ধ, খাল ও ড্রেনের বর্জ্য অপসারণ ও পানির প্রবাহ নিশ্চিতকরণ এবং নদীর তলদেশে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা বর্জ্য অপসারণে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সভায় বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. একেএম শাহাবুদ্দিন, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ আব্দুর রহমান তরফদার, রাজউকের চেয়ারম্যান (সচিব) ইঞ্জিনিয়ার মো: রিয়াজুল ইসলাম, পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের জলবায়ু পরিবর্তন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (রুটিন দায়িত্ব) মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ, শিল্প মালিকদের সংগঠন এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ এর নেতৃবৃন্দ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবগণ, বিভিন্ন দপ্তর-সংস্থার প্রতিনিধি, পরিবেশ সংগঠনের প্রতিনিধি, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এবং প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

MCH/AHA
আরও পড়ুন