চুল পড়া কমাতে প্রতিদিন খাবেন যে ৩ ফল

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৯ এএম

আজকাল চুল পড়ার সমস্যায় ভুগছেন অনেকেই। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রা, মানসিক চাপ, পরিবেশ দূষণ, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা এবং খাদ্যে প্রয়োজনীয় পুষ্টির অভাবের কারণে অল্প বয়সেই মাথার চুল পাতলা হতে শুরু করে। চিকিৎসকদের মতে, চুলের গোড়া শক্ত করতে, ক্ষয়রোধ করতে এবং নতুন চুল গজানোর প্রক্রিয়া বজায় রাখতে সঠিক খাদ্যাভ্যাস ভীষণ জরুরি। বিশেষ করে, চুলের সুরক্ষায় 'ভিটামিন সি' অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

ভিটামিন সি শরীরে কোলাজেন প্রোটিন তৈরিতে সাহায্য করে, যা চুলের গোড়াকে মজবুত রাখতে মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। এছাড়া এটি খাবার থেকে আয়রন শোষণে শরীরকে সহায়তা করে; উল্লেখ্য, শরীরে আয়রনের ঘাটতি হলে চুল ঝরার পরিমাণ বহুগুণ বেড়ে যায়। তাই রোজকার খাদ্যতালিকায় ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল রাখা চুলের জন্য দারুন ফলদায়ক।

আমাদের দেশেই মিলবে এমন ৩টি ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল প্রতিদিন খেলে চুল পড়ার সমস্যা থেকে রেহাই মিলতে পারে—

১. আমলকী: চুলের অনন্য প্রাকৃতিক ওষুধ

প্রাচীনকাল থেকেই চুলের স্বাস্থ্যে আমলকীর সুখ্যাতি সর্বজনবিদিত। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা চুলের মূল শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। প্রতিদিন নিয়ম করে আমলকী খেলে চুলের অকালপক্কতা কমে, খুশকি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি তরান্বিত হয়।

কখন খাবেন: সকালে খালি পেটে কাঁচা আমলকী চিবিয়ে কিংবা কুসুম গরম পানিতে আমলকীর রস মিশিয়ে খেলে শরীর খুব দ্রুত এর পুষ্টি শোষণ করে নিতে পারে।

২. পেয়ারা: ভিটামিন সি-এর বড় উৎস

অনেকেরই জানা নেই যে, সাইট্রাস জাতীয় ফল কমলার তুলনায় পেয়ারায় প্রায় চার গুণ বেশি ভিটামিন সি পাওয়া যায়। এই ফল মাথার স্ক্যাল্প বা ত্বকে রক্তচলাচল বাড়ায়, যার ফলে চুলের গোড়ায় সহজেই পুষ্টি পৌঁছায় এবং নতুন চুল গজানোর পথ সুগম হয়।

কখন খাবেন: দুপুরের প্রধান খাবারের ১-২ ঘণ্টা আগে বা পরে অর্থাৎ দুই বেলার মাঝখানের সময়ে পেয়ারা খাওয়া ভালো। খালি পেটে কিংবা একবারে ভারী খাবারের সাথে পেয়ারা খাওয়া উচিত নয়।

৩. পাতিলেবু: চুলের কোলাজেন বাড়াতে কার্যকর

সহজলভ্য পাতিলেবু ভিটামিন সি-এর চমৎকার উৎস। এটি স্ক্যাল্পে কোলাজেন তৈরি বাড়ায়, যা চুলের গোড়াকে সহজে আলগা হতে দেয় না। পাশাপাশি দুপুরে খাবারের সাথে লেবুর রস খেলে খাবারে থাকা আয়রন শরীর সহজে গ্রহণ করতে পারে, যা চুল পড়া কমাতে সাহায্য করে।

কখন খাবেন: সকালে হালকা গরম পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে অথবা দুপুরের খাবারের সাথে পাতিলেবুর রস খাওয়া বেশ উপকারী।

যে ভুল এড়িয়ে চলবেন

ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল খাওয়ার অন্তত এক ঘণ্টার মধ্যে চা বা কফি পান করা থেকে বিরত থাকুন। কফিতে থাকা ক্যাফেইন ভিটামিন সি ও অন্যান্য উপাদান শোষণে বাধা সৃষ্টি করে।

সুষম খাবার ও যত্ন জরুরি

চুল পড়া বন্ধে শুধু ভিটামিন সি-ই শেষ কথা নয়। এর পাশাপাশি খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত প্রোটিন, আয়রন, জিংক, বায়োটিন, ভিটামিন ডি ও ওমেগা-৩ যুক্ত খাবারও নিশ্চিত করতে হবে। সঙ্গে পর্যাপ্ত পানি পান, সঠিক সময়ে ঘুম এবং দুশ্চিন্তামুক্ত থাকা প্রয়োজন।

তবে থাইরয়েড, অ্যানিমিয়া (রক্তস্বল্পতা) বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যার কারণেও অতিরিক্ত চুল ঝরতে পারে। তাই দীর্ঘকাল ধরে অতিরিক্ত চুল পড়া, মাথার ত্বকে অতিরিক্ত চুলকানি বা একসংগে অনেক চুল উঠে যাওয়ার সমস্যা থাকলে কালক্ষেপণ না করে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই শ্রেয়।

ওয়াইএ
আরও পড়ুন