মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন তাঁর সঙ্গে আলোচনায় বসার অনুরোধে সাড়া দিয়েছেন। সোমবার (১৭ আগস্ট) ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প এ দাবি করেন। এর একদিন আগে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়মিত যৌথ সামরিক মহড়া উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি।
সাংবাদিকরা ট্রাম্পকে প্রশ্ন করেন, কিম তাঁর সঙ্গে কথা বলার অনুরোধের কোনো জবাব দিয়েছেন কি না। জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আপনি কীভাবে জানলেন যে তিনি জবাব দেননি?’ পরে আবার প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, তিনি জবাব দিয়েছেন।’
তবে কিমের সঙ্গে কী ধরনের যোগাযোগ হয়েছে বা আলোচনায় কী বিষয় উঠে এসেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি ট্রাম্প। তিনি শুধু এই যোগাযোগকে ‘খুব ইতিবাচক’ বলে উল্লেখ করেন। উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক মহড়া কমানোর নির্দেশ
এর আগে রোববার ট্রাম্প পেন্টাগনকে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের যৌথ সামরিক মহড়া ‘উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর’ নির্দেশ দেন। নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প বলেন, প্রতিবছরের এসব সামরিক মহড়া শুধু ব্যয়বহুলই নয়, বরং এমন একটি দেশের প্রতি ‘অনুপযুক্ত ও বৈরী সংকেত’ পাঠায়, যে তাঁর প্রেসিডেন্ট থাকার সময় হুমকিমূলক আচরণ করেনি।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়ার সহযোগিতা না করার বিষয়টির সঙ্গেও মহড়া কমানোর সিদ্ধান্তকে যুক্ত করেন ট্রাম্প।
ইরান ইস্যুতে দক্ষিণ কোরিয়াকে ট্রাম্পের সমালোচনা
সোমবারও দক্ষিণ কোরিয়ার অবস্থানের সমালোচনা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের কাছ থেকে দক্ষিণ কোরিয়াকে রক্ষা করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩৯ হাজার সেনা সেখানে রয়েছে। অথচ ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে সহযোগিতা না করায় তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন।
ট্রাম্প একই সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়া এবং ইরান যুদ্ধে সহযোগিতা না করা ন্যাটো মিত্রদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সহায়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করছে না, তাদের সবাইকে রক্ষা করা ওয়াশিংটনের পক্ষে সম্ভব নয়।
তবে দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যৌথ সামরিক মহড়া নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে তারা আশা করছেন, ট্রাম্প ও কিমের ব্যক্তিগত সম্পর্ক দুই দেশের মধ্যে আবারও আলোচনার পথ খুলে দিতে পারে।
রাশিয়ার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার ঘনিষ্ঠতা
২০১৯ সালের পর উত্তর কোরিয়া রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করেছে এবং চীনের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রেখেছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার সেনারাও অংশ নিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কিয়েভ গত সপ্তাহে দাবি করেছে, জাপোরিঝঝিয়ার একটি ইস্পাত কারখানায় রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় উত্তর কোরিয়ায় তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র এর আগে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে উত্তর কোরিয়ার সামরিক সহায়তার সমালোচনা করেছে। তবে সোমবার ট্রাম্প কিম সম্পর্কে বলেন, উত্তর কোরিয়ার নেতা সবসময় তাঁর প্রতি ‘অত্যন্ত সম্মান’ দেখিয়েছেন।
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমি তাকে বুঝি। সেও আমাকে বোঝে।’
ফের বৈঠকের সম্ভাবনা
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের উদ্যোগের ব্যাপারে উত্তর কোরিয়া এখনো সতর্ক অবস্থানে থাকলেও দুই নেতার মধ্যে আরেকটি বৈঠকের সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে ওয়াশিংটনের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের কোরিয়া কর্মসূচির প্রধান ভিক্টর চা মনে করেন, পিয়ংইয়ং দ্রুত কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না।
রয়টার্সকে তিনি বলেন, উত্তর কোরিয়া সম্ভবত কিছুটা সময় নিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে।
বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক ও সামরিক চাপের মধ্যে উত্তর কোরিয়া প্রসঙ্গ সামনে আনার পেছনে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বার্তাও থাকতে পারে। তবে একই সঙ্গে কিমের সঙ্গে আবার সরাসরি বৈঠকে বসার বিষয়ে ট্রাম্পের আগ্রহও স্পষ্ট।
বাংলাদেশসহ চার দেশের প্রবাসীদের জন্য রোমানিয়া দূতাবাসের সতর্কবার্তা
গাজায় বসবাসের অযোগ্য তাঁবুতে ৫ লাখেরও বেশি শিশু
আকাশছোঁয়া মূল্যস্ফীতিতে দিশেহারা ইরান