আকস্মিক বন্যায় নেপালে ৮ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ ১০৫ ভারতীয়

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৫৬ পিএম

নেপালের উত্তরাঞ্চলে চীন সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় গ্রাম, সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎ প্রকল্প ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বুধবারের (২৬ আগস্ট) এই দুর্যোগে অন্তত আটজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে নিখোঁজের সংখ্যা বাড়তে থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ।

নেপাল পুলিশের কেন্দ্রীয় মুখপাত্র ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ অভিনারায়ণ কাফলেকে উদ্ধৃত করে নেপাল নিউজ জানিয়েছে, নুয়াকোট ও ধাদিং জেলা থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত আটজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

নিখোঁজ কয়েক শত পর্যটক

নেপালের পর্যটন বোর্ড জানিয়েছে, বন্যাকবলিত এলাকায় প্রায় ৪০০ পর্যটকের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। প্রাথমিক হিসাবে নিখোঁজ ৩৮৪ জনের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি এবং ৯৩ জন নেপালের নাগরিক। নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ভারত, অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ডস, দক্ষিণ আফ্রিকা, যুক্তরাজ্য ও মালয়েশিয়ার নাগরিক রয়েছেন। তবে সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তথ্য যাচাই চলছে বলে জানিয়েছে পর্যটন বোর্ড।

উত্তর নেপালের রাসুয়া অঞ্চলের সিয়াপ্রু বেসি ও তিমুরে উদ্ধারকাজে হেলিকপ্টার পাঠানো হলেও পানির উচ্চতা বেশি থাকায় সেগুলো অনেক জায়গায় অবতরণ করতে পারছে না। সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে। নদীতীরবর্তী ও নিচু এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বন্যার কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে গত বছর নেপালে প্রাণঘাতী বন্যার পেছনে হিমবাহের হ্রদের পানি নেমে আসাকে দায়ী করা হয়েছিল।

দুর্যোগের প্রভাব পড়েছে সীমান্তের ওপারে চীনের তিব্বতেও। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিব্বতের গিরং কাউন্টিতে নেপাল থেকে সৃষ্ট একটি ভূমিধসে বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটেছে। এতে সড়ক যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত জলবিদ্যুৎ প্রকল্প

নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি (এনইএ) জানিয়েছে, বন্যায় তাদের অন্তত ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ জলবিদ্যুৎ ও বিদ্যুৎ সঞ্চালন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এগুলো হলো, রাসুওয়াগাড়ি, চিলিমে, ত্রিশূলী-৩এ, ত্রিশূলী-৩বি হাব ২২০ কেভি সাবস্টেশন, ত্রিশূলী হাইড্রোপাওয়ার স্টেশন এবং দেবীঘাট হাইড্রোপাওয়ার স্টেশন।

চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নিখোঁজদের উদ্ধারে সর্বাত্মক অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং পরবর্তী দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলায়ও গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। উদ্ধার তৎপরতায় সহায়তার জন্য তিব্বতে কেন্দ্রীয় দুর্যোগ ত্রাণের ৩০ হাজার সামগ্রী পাঠানো হচ্ছে।

ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের দৃশ্য

নেপাল পুলিশসহ বিভিন্ন সূত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বন্যার ভিডিও প্রকাশ করেছে। এসব ভিডিওতে দেখা যায়, তিব্বত সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলের পাহাড়ি উপত্যকাগুলো দিয়ে প্রবল স্রোতে কাদামিশ্রিত পানি নেমে আসছে। পানির তোড়ে সড়ক, অবকাঠামো ও বসতিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্রও উঠে এসেছে।

নেপাল ও তিব্বতের পার্বত্য এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে সড়ক, সেতু ও যোগাযোগ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধার অভিযানও কঠিন হয়ে পড়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান অব্যাহত থাকলেও দুর্গম ভূপ্রকৃতি ও প্রবল স্রোত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সূত্র: সিএনএন, এনডিটিভি

এএস
আরও পড়ুন