পদত্যাগ করছেন মার্কিন সেনা সচিব ড্রিসকল!

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪২ এএম

মার্কিন সেনাবাহিনীর সচিব ড্যান ড্রিসকল হোয়াইট হাউসে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে কয়েক মাস ধরে চলা মতবিরোধ ও উত্তেজনার মধ্যেই তিনি এ পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ড্রিসকলের পদত্যাগপত্র হোয়াইট হাউস গ্রহণ করেছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এদিকে তাঁর পদত্যাগের খবর প্রথম প্রকাশ করে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। মার্কিন সেনাবাহিনী অবশ্য এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

সূত্রটির দাবি, সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন ও যুদ্ধপ্রস্তুতি নিয়ে প্রশাসনের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন ড্রিসকল। বিশেষ করে এসব উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন জেনারেলকে হেগসেথ বরখাস্ত করায় তিনি অসন্তুষ্ট ছিলেন।

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন সেনাবাহিনীর শীর্ষ বেসামরিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব নেন ড্রিসকল। তিনি সেনাবাহিনীর অস্ত্র সংগ্রহ প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও কার্যকর করার পক্ষে ছিলেন। তুলনামূলক কম খরচে অস্ত্র সংগ্রহের ওপর জোর দেওয়ার পাশাপাশি বড় প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলোর সমালোচনাও করেছিলেন তিনি।

এক মার্কিন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, হেগসেথ ড্রিসকলকে পেন্টাগনের প্রশাসনিক কাঠামোর ভেতরে নিজের জন্য হুমকি হিসেবে দেখতেন এবং দীর্ঘদিন ধরেই তাকে সরিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। তবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের সঙ্গে ড্রিসকলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় বিষয়টি হেগসেথের জন্য সহজ ছিল না বলে ওই কর্মকর্তা জানান।

ড্রিসকলের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ভূমিকা পেন্টাগনের বাইরেও আলোচনায় আসে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেওয়ার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। সেনাবাহিনীর একজন সচিবের জন্য এ ধরনের কূটনৈতিক দায়িত্ব পাওয়া ছিল বেশ বিরল ঘটনা।

হেগসেথের সঙ্গে ড্রিসকলের সম্পর্কের অবনতির ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছিল সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ জেনারেল র‌্যান্ডি জর্জকে বরখাস্ত করা। গত এপ্রিলে জর্জকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হলে ড্রিসকল বিষয়টি নিয়ে বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ হন বলে সূত্রটি জানিয়েছে। পরে ড্রিসকল আইনপ্রণেতাদের বলেছিলেন, জর্জকে বরখাস্তের পর তাঁর পরিবার সাবেক জেনারেলের বাড়িতে গিয়ে তাকে আলিঙ্গন করে সমবেদনা জানিয়েছিল।

এরপর জুনে হেগসেথ ইউরোপে মার্কিন সেনাবাহিনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত শীর্ষ কর্মকর্তাকেও সরিয়ে দেন এবং সেনাবাহিনীর কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার পদোন্নতিও ব্যক্তিগতভাবে আটকে দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি ড্রিসকলের প্রশংসা করে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা স্ট্রং এগেইন’ কর্মসূচি বাস্তবায়নে তিনি কার্যকর ভূমিকা রেখেছেন। ঐতিহাসিক সামরিক অভিযান, সেনাবাহিনীর যুদ্ধপ্রস্তুতি ও সক্ষমতার ওপর গুরুত্ব আরোপ এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আলোচনায় তাঁর ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

ড্রিসকলের পদত্যাগের খবর এমন সময়ে সামনে এলো, যখন ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান চলমান এবং মধ্যপ্রাচ্যে হাজার হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। ফলে মার্কিন সেনাবাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ে এ ধরনের নেতৃত্ব পরিবর্তন ওয়াশিংটনের সামরিক নীতি ও প্রস্তুতিতে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

 সূত্র: আরব নিউজ

পদত্যাগপত্র করছেন মার্কিন সেনা সচিব ড্রিসকল!
আরও পড়ুন