সম্মিলিত সামরিক প্রস্তুতির আহ্বান সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২০ এএম

সাধারণ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় রাজনৈতিক সমন্বয়, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একীভূতকরণ এবং সম্মিলিত সামরিক প্রস্তুতি প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান।

সোমবার ইস্তাম্বুলে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় গঠিত স্ট্র্যাটেজিক পলিটিক্যাল অ্যান্ড ডিফেন্স কমিটির প্রথম বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। তিন দেশের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং সামরিক বাহিনীর প্রধানরা বৈঠকে অংশ নেন।

খালিদ বিন সালমান বলেন, তিন দেশের নিরাপত্তা পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। ফলে অভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও হুমকি মোকাবিলায় শুধু পৃথকভাবে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো যথেষ্ট নয়; রাজনৈতিক সমন্বয়ের পাশাপাশি সামরিক সক্ষমতার মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সমন্বয় এবং সম্মিলিত প্রস্তুতি গড়ে তোলা প্রয়োজন।

বৈঠকে তিন দেশ মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি কার্যকর করার বিষয়ে নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। একই সঙ্গে চুক্তির অধীনে সহযোগিতাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সৌদি আরবে একটি সচিবালয় প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে তিন বছরের জন্য একজন পাকিস্তানি মহাসচিব এই সচিবালয়ের নেতৃত্ব দেবেন।

চুক্তির আওতায় তিন দেশ নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও সামরিক বাহিনীর পারস্পরিক সমন্বয় বাড়ানোর পাশাপাশি যৌথ সামরিক কার্যক্রম, প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা, যৌথ উৎপাদন ও সামরিক প্রযুক্তি উন্নয়নে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

গত ৭ আগস্ট মক্কায় সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তিটি তিন দেশের ওপর সশস্ত্র হামলাকে সম্মিলিত নিরাপত্তার বিষয় হিসেবে বিবেচনার কাঠামো তৈরি করেছে।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্য ও বৃহত্তর অঞ্চলে একটি নতুন নিরাপত্তা ও সহযোগিতা কাঠামো তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ভবিষ্যতে অন্য দেশগুলোকেও এই কাঠামোয় যুক্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।

আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মধ্যে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের এই প্রতিরক্ষা সহযোগিতা তিন দেশের সামরিক সক্ষমতার সমন্বয় এবং সম্মিলিত প্রতিরোধব্যবস্থা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ওয়াইএ
আরও পড়ুন