মার্কিন সৈন্য ধরিয়ে দিলেই মোটা অঙ্কের পুরস্কার ইরানের

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৮:১৭ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সদস্যদের বন্দি বা হত্যার বিনিময়ে বড় অঙ্কের পুরস্কার ঘোষণা করেছে ইরান। দেশটির সেনাবাহিনীর প্রধান সেনাপতি আমির হাতামি রোববার (১৬ আগস্ট) জানান, কোনো ইরানি নাগরিক যদি একজন মার্কিন সেনা সদস্যকে জীবিত ধরতে পারেন বা হত্যা করতে সক্ষম হন, তাহলে তাকে ৩০ হাজার মার্কিন ডলার পুরস্কার দেওয়া হবে।

হাতামি বলেন, এই বিপুল অঙ্কের অর্থ জোগান দেবে খোদ ইরানি জনগণই। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এমন ঘোষণা দিলেন ইরানের শীর্ষ এই সামরিক কর্মকর্তা, যা নতুন করে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কে উত্তাপ ছড়িয়েছে।

এই প্রথম নয়, এর আগেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার বিনিময়ে পুরস্কার ঘোষণার নজির রয়েছে ইরানি কর্মকর্তাদের। চলতি বছরের ১৫ মে ইরানের পার্লামেন্টের জ্যেষ্ঠ সদস্য ইব্রাহিম আজিজি জানিয়েছিলেন, সংসদে একটি প্রস্তাবিত বিলে ট্রাম্পকে হত্যা করলে ৫ কোটি ইউরো পুরস্কার দেওয়ার সুপারিশ রাখা হয়েছে। এমন প্রস্তাব তখনও যথেষ্ট আলোচনার জন্ম দিয়েছিল আন্তর্জাতিক মহলে।

সামরিক পর্যায়ে এমন প্রকাশ্য বাউন্টি ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের অবনতির আরেকটি দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত জুনে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাতের পর থেকেই তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সম্পর্কে টানাপড়েন চলছে। যুক্তরাষ্ট্র বহু আগে থেকেই ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী তথা আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে রেখেছে, যা নিয়ে তেহরানের আপত্তি বরাবরই তীব্র।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও একাধিকবার অভিযোগ করেছে, ইরান-সমর্থিত বিভিন্ন গোষ্ঠী মার্কিন নাগরিক ও সামরিক স্থাপনার ওপর হামলার পরিকল্পনা করছে। এমন পরিস্থিতিতে সরাসরি সেনাবাহিনীর প্রধানের কণ্ঠে বাউন্টি ঘোষণা আসাকে অনেক পর্যবেক্ক বিশ্লেষক আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।

এখনো পর্যন্ত এই ঘোষণা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বা হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি। তবে অতীতে এ ধরনের হুমকি বা বাউন্টি ঘোষণার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র নিয়মিতভাবেই কড়া ভাষায় নিন্দা জানিয়ে এসেছে এবং নিজেদের নাগরিক ও সেনা সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের কথা জানিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের প্রকাশ্য ঘোষণা কূটনৈতিক সমাধানের পথকে আরও জটিল করে তুলতে পারে, বিশেষত এমন এক সময়ে যখন পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা পুনরায় শুরুর চেষ্টা চলছে। তবে সাম্প্রতিক এই বাউন্টি ঘোষণা সেই প্রচেষ্টায় নতুন বাধা তৈরি করতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করছেন কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

Attr/AHA
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত