ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন

সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে ইরানকে রাশিয়ার গোপন সহায়তা

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০১ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর জাহাজকে লক্ষ্য করে নতুন ধরনের হুমকি তৈরির সক্ষমতা দিতে ইরানকে সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি উন্নয়নে গোপনে সহায়তা করেছে রাশিয়া। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে ফাঁস হওয়া রুশ চিঠিপত্র, ভ্রমণ নথি ও সামরিক পেটেন্টের তথ্যের বরাত দিয়ে এ দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সি৪৩০এল সাংকেতিক নামের এই কর্মসূচি শুরু হয় ২০২৩ সালে এবং চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের সময়ও তা অব্যাহত ছিল। কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল র‌্যামজেট ইঞ্জিন প্রযুক্তি উন্নয়ন, যা ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রকে শব্দের গতির কয়েক গুণ বেশি গতিতে উড়তে সক্ষম করতে পারে।

এ ধরনের উচ্চগতির ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্য শনাক্ত ও প্রতিহত করার জন্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার হাতে থাকা সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিতে পারে। সাবেক সিআইএ সামরিক বিশ্লেষক জিম ল্যামসনের মতে, প্রযুক্তিটি ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর জাহাজের বিরুদ্ধে একটি নতুন কৌশলগত অস্ত্র ব্যবহারের সক্ষমতা দিতে পারে।

ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, ইরান ইতোমধ্যে ওই প্রপালশন ব্যবস্থা তৈরি ও উড্ডয়ন পরীক্ষা করেছে। তবে রাশিয়ার সহায়তায় তৈরি কোনো সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের সামরিক বাহিনীতে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হয়েছে, এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় অস্ত্র রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান রোসোবোরোনএক্সপোর্ট এবং ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাতা এনপিও মাশিনোস্ত্রোইনিয়ারিয়া যৌথভাবে কর্মসূচিটি এগিয়ে নেয়। চুক্তি স্বাক্ষরের আগে রুশ প্রকৌশলীরা একাধিকবার ইরান সফর করেন। ২০২৩ সালের নভেম্বরে ইরানের প্রতিরক্ষা ও সশস্ত্র বাহিনী লজিস্টিকস মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে চুক্তি হয়।

২০২৫ সালের মধ্যে রুশ বিশেষজ্ঞরা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের উড্ডয়ন পরীক্ষার তথ্য বিশ্লেষণ এবং র‌্যামজেটের জ্বালানি ব্যবস্থা, দহন স্থিতিশীলতা, বায়ুপ্রবেশ ব্যবস্থা ও ইঞ্জিনের অগ্রভাগ নিয়ে পরামর্শ দিতে শুরু করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কনফ্লিক্ট আর্মামেন্ট রিসার্চের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ফ্যাবিয়ান হিনৎস বলেন, এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল সামরিক প্রযুক্তি হস্তান্তরের ঘটনা। তাঁর মতে, ইরান দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের প্রযুক্তি অর্জনের চেষ্টা করে আসছে এবং কর্মসূচির মতো সহযোগিতার জন্য রাশিয়ার সর্বোচ্চ পর্যায়ের রাজনৈতিক অনুমোদন প্রয়োজন হতে পারে।

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে এ প্রযুক্তির সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। কম উচ্চতায় দ্রুতগতিতে উড়তে সক্ষম সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত ও প্রতিহত করা আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য কঠিন হতে পারে। ফলে ওই অঞ্চলে মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের স্থল ও নৌ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর নতুন চাপ তৈরি হতে পারে।

ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালেও কর্মসূচিটি চলমান ছিল। রাশিয়া নতুন কারিগরি প্রতিবেদন প্রস্তুত করছিল এবং দুই দেশ কর্মসূচির পরবর্তী ধাপ নিয়ে আলোচনা করছিল। তবে জুনে রোসোবোরোনএক্সপোর্টের একটি চিঠিতে পরবর্তী ধাপ নিয়ে আলোচনা চলার প্রমাণ পাওয়া গেলেও সেটি বাস্তবে শুরু হয়েছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়।

ইরানের নিজস্ব উন্নত অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা বাড়াতে রাশিয়ার কারিগরি সহযোগিতার বিষয়টি দুই দেশের সামরিক সম্পর্ক আরও গভীর হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর আগে ইরান রাশিয়াকে ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহৃত শাহেদ ড্রোন সরবরাহ করেছে এবং রাশিয়ায় এসব ড্রোনের উৎপাদন স্থাপনে সহায়তা করেছে।

এদিকে রাশিয়া, রোসোবোরোনএক্সপোর্ট, এনপিও মাশিনোস্ত্রোইনিয়ারিয়া ও ইরান সরকারের কাছে মন্তব্য চাওয়া হলেও তারা ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল

এএস
আরও পড়ুন