আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংকট ও পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ করে ইরান ইস্যুতে জাতিসংঘের আরও কার্যকর ভূমিকার আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন এবং দ্বৈত নীতির সমালোচনা করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) কিরগিজস্তানে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা ও এসসিও প্লাস সম্মেলনের সাইডলাইনে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন পেজেশকিয়ান।
ইরানের প্রেসিডেন্ট জাতিসংঘ মহাসচিবকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার নিন্দা জানানোর জন্য ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে বর্তমান আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় জাতিসংঘের কার্যকারিতা আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
পেজেশকিয়ান বলেন, আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক আইন না মানা। ইরানে মার্কিন হামলায় জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও বেসামরিক নাগরিক, এমনকি স্কুলশিশুরাও নিহত হয়েছে এবং দেশটির বিভিন্ন অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, এসব ঘটনা মানবিক নীতি ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি অবজ্ঞার প্রমাণ।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দ্বৈত নীতিরও সমালোচনা করেন পেজেশকিয়ান। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এমন কর্মকাণ্ডের পর কীভাবে দেশটি গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের পক্ষে অবস্থানের দাবি করতে পারে।
সাম্প্রতিক যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে হওয়া একটি চুক্তির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিজেদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে। ইরান যুদ্ধ চায় না এবং সংঘাতের ধারাবাহিকতা ও বিস্তারে কারও লাভ হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সংঘাত ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রকে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকে ফিরে গিয়ে নিজেদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান পেজেশকিয়ান।
তিনি বলেন, ইরান শক্তি প্রয়োগ বা হুমকি মেনে নেবে না। ইরানি জনগণের অধিকার স্বীকৃতি দেওয়া, সমঝোতা স্মারকে ফিরে যাওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নই বর্তমান পরিস্থিতির অবসানের একমাত্র পথ।
আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং সংলাপের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তিতে ইরানের উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন পেজেশকিয়ান। তাঁর দাবি, তেহরান আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করতে চায়। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এ লক্ষ্য অর্জনের প্রধান বাধা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গাজা ও লেবাননের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। অঞ্চলটির মানুষের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে উদ্বেগজনক ও অগ্রহণযোগ্য উল্লেখ করে তিনি আগ্রাসন ও নৃশংসতা চালাতে কোনো রাষ্ট্র বা শাসকগোষ্ঠীকে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সুযোগ না দিতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।
বৈঠকে গুতেরেস বলেন, তাঁর দায়িত্বকালে আন্তর্জাতিক আইনের শাসন, শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সংঘাত কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের বিষয়ে তাঁর বক্তব্যগুলোতেও শান্তিপূর্ণ ও কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
গুতেরেস আরও বলেন, তাঁর বিশ্বাস, ইসরায়েল ইরানকে দুর্বল ও ধ্বংস করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে এই যুদ্ধে জড়িয়েছে। উল্লেখযোগ্য চাপের মধ্যেও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সামনে ইরানের ওপর হামলার নিন্দা জানানো একমাত্র ব্যক্তি তিনি ছিলেন বলেও দাবি করেন জাতিসংঘ মহাসচিব। সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি
যুক্তরাষ্ট্রের পানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ইরানি হ্যাকারদের হামলা
বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলা ‘যুদ্ধাপরাধ’: ইসমাইল বাঘাই
ইরানে সমাবেশে গাড়ির ধাক্কা, নিহত ৪