হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামরিক পদক্ষেপসহ বিভিন্ন বাস্তবসম্মত বিকল্প বিবেচনা করছে দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটির প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ বিষয়ে সিউল নিষ্ক্রিয় রয়েছে- এমন দাবি সঠিক নয়।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের ওই কর্মকর্তা জানান, হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিত করার প্রচেষ্টায় কীভাবে অবদান রাখা যায়, তা নিয়ে সরকার বিভিন্ন বিকল্প পর্যালোচনা করছে। এর মধ্যে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপও রয়েছে।
তবে দক্ষিণ কোরিয়া এখনই কোনো নির্দিষ্ট সামরিক মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে- এমন খবরকে দেশটির প্রেসিডেন্টের কার্যালয় নাকচ করেছে। এর আগে দক্ষিণ কোরিয়ার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল, হরমুজে সামরিক সম্পদ পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে সিউল এবং বছরের শেষ নাগাদ সেখানে তা মোতায়েন করা হতে পারে।
ওই প্রতিবেদনে সম্ভাব্য পদক্ষেপ হিসেবে সামুদ্রিক টহল বিমান, লজিস্টিক সহায়তা জাহাজ কিংবা সমুদ্রের মাইন শনাক্ত ও অপসারণে সক্ষম ইউনিট পাঠানোর কথা বলা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছিল। তবে প্রেসিডেন্টের কার্যালয় বলেছে, মোতায়েনের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাতের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে এই জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে গেছে। ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক বাজারে উদ্বেগ বাড়ছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যকার নিরাপত্তা আলোচনা বর্তমানে এগোচ্ছে না বলেও ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তবে দুই দেশের আলোচনায় সেমিকন্ডাক্টরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার সম্ভাব্য ভূমিকার বিষয়টি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র হয়েছে। ওয়াশিংটন জলপথটিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক রাখার ওপর জোর দিচ্ছে, অন্যদিকে ইরানের সামরিক তৎপরতা ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।
সিউল যদি শেষ পর্যন্ত সামরিক বা নৌ-সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে দক্ষিণ কোরিয়ার সরাসরি সম্পৃক্ততা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির নিরাপত্তা সম্পর্কেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
গণমাধ্যমকে ‘বিশ্বাসঘাতক ও নোংরা’ বললেন ট্রাম্প
কিয়েভে রুশ হামলায় আহত ১০, বহুতল ভবনে আগুন