ইরানের ‘অর্থহীন যুদ্ধে’ না জড়াতে সতর্ক করলেন ইয়েমেনের নেতা

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৭ এএম

ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ‘অর্থহীন যুদ্ধে’ নিজেদের সন্তানদের না জড়াতে হুথি-নিয়ন্ত্রিত এলাকার উপজাতীয় নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ইয়েমেনের প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের (পিএলসি) চেয়ারম্যান রাশাদ আল-আলিমি।

ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর মিডিয়া সেন্টারের প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আল-আলিমি বলেন, উপজাতীয়দের উচিত তাদের সন্তানদের এমন একটি প্রকল্পের ‘জ্বালানি’ হিসেবে ব্যবহার না করা, যা ইয়েমেনের স্বার্থে কোনো ভূমিকা রাখে না।

তিনি বলেন, ইয়েমেনিদের ‘ইরানি শাসনের এজেন্ডা ও অঞ্চলে তাদের ধ্বংসাত্মক প্রকল্পের সেবায় মৃত্যুর আগুনে’ পাঠানো উচিত নয়। তাঁর বক্তব্যে হুথিদের সামরিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ইরানের আঞ্চলিক নীতির যোগসূত্রের অভিযোগই মূলত উঠে এসেছে।

ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সঙ্গে ইরান-সমর্থিত হুথিদের দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত চলছে। হুথিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ দেশটির উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে। অন্যদিকে আল-আলিমির নেতৃত্বাধীন প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রতিনিধিত্ব করে।

আল-আলিমি এর আগেও হুথিদের অস্ত্র ত্যাগ করে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, ইয়েমেনে এমন একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যেখানে অস্ত্র ও সার্বভৌমত্বের ওপর রাষ্ট্রের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ থাকবে।

সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের সংঘাত নতুন করে আঞ্চলিক উত্তেজনার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক সংঘাত তীব্র হওয়ার পর হুথিদের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়েও উদ্বেগ বেড়েছে। হুথিদের ইরান-ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং অতীতেও তারা আঞ্চলিক সংঘাতে ইরানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

আল-আলিমির আহ্বান মূলত হুথি-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর ওপর রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব বিস্তারের একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি স্থানীয় উপজাতিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, তারা যেন নিজেদের সন্তানদের এমন সামরিক কর্মকাণ্ডে পাঠানো থেকে বিরত থাকেন, যার মাধ্যমে ইয়েমেনের পরিবর্তে অন্য কোনো দেশের কৌশলগত স্বার্থ পূরণ হতে পারে।

ইয়েমেনে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের কারণে দেশটির সাধারণ মানুষ ইতোমধ্যেই ব্যাপক মানবিক সংকটের মুখে রয়েছে। ফলে আল-আলিমির বক্তব্যে যুদ্ধের পরিবর্তে ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ স্বার্থ ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার ওপর জোর দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট।

তবে হুথিদের পক্ষ থেকে আল-আলিমির সর্বশেষ বক্তব্যের তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে ইরানও ইয়েমেনের উপজাতিদের বিষয়ে আল-আলিমির অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

আল-আলিমির এই আহ্বান এমন এক সময়ে এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত আবারও তীব্র হয়েছে এবং আঞ্চলিক মিত্র ও সহযোগী গোষ্ঠীগুলোর ভূমিকা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফলে ইয়েমেনে হুথিদের সামরিক অবস্থান এবং ইরানের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ভবিষ্যৎ আঞ্চলিক সংঘাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

ওয়াইএ
আরও পড়ুন