মোবাইল ব্যালান্সে কেনাকাটার সীমা বাড়ল ১৫০ শতাংশ

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১৬ পিএম

মোবাইল ব্যালান্স ব্যবহার করে স্মার্টফোন, বিভিন্ন ডিভাইস ও নির্ধারিত ডিজিটাল সেবা কেনার সীমা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ডাইরেক্ট অপারেটর বিলিং ব্যবস্থায় মাসে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা এবং বছরে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ করা যাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনের পর ছয় মাসের জন্য এ সীমা বাড়িয়েছে বিটিআরসি। এর আগে মাসিক সীমা ছিল ২ হাজার টাকা এবং বার্ষিক সীমা ২০ হাজার টাকা। ফলে উভয় ক্ষেত্রেই ব্যয়ের সীমা বেড়েছে ১৫০ শতাংশ।

ডাইরেক্ট অপারেটর বিলিং বা ডিওবি এমন একটি নিয়ন্ত্রিত অর্থ পরিশোধব্যবস্থা, যেখানে গ্রাহক মোবাইলের ব্যালান্স ব্যবহার করে নির্দিষ্ট পণ্য ও সেবা কিনতে পারেন। ক্রেডিট কার্ড বা ব্যাংক হিসাব নেই এমন গ্রাহকদের জন্য এ ব্যবস্থা বিশেষভাবে কার্যকর হতে পারে।

নতুন সীমার আওতায় স্মার্টফোন, সিমভিত্তিক বিভিন্ন ডিভাইস ও রাউটারসহ নির্ধারিত ডিজিটাল পণ্য ও সেবা কেনার সুযোগ থাকবে। এমনকি মোবাইল ব্যালান্স থেকে কিস্তিতে স্মার্টফোন কেনার ব্যবস্থাও চালু হতে পারে।

এখন পর্যন্ত সংশোধিত সীমার আওতায় ডিওবি সেবা দেওয়ার অনুমোদন পেয়েছে শুধু গ্রামীণফোন। তবে অন্য মোবাইল অপারেটররাও এ অনুমোদনের জন্য আবেদন করতে পারবে বলে জানিয়েছে বিটিআরসি।

ডিওবির মাধ্যমে ডিজিটাল কনটেন্ট, অ্যাপ ও অ্যাপের ভেতরের কেনাকাটা, অনলাইন ইউটিলিটি বিল, ই-টিকিটিং, ই-হেলথ সেবা, সরকারি লটারি, বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের সাবস্ক্রিপশন ও শিক্ষা প্ল্যাটফর্মের সেবার মূল্য পরিশোধ করা যায়।

তবে মোবাইল ব্যালান্সকে অবাধে ব্যবহারযোগ্য ডিজিটাল অর্থ হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ নেই। ভার্চুয়াল মুদ্রা, ক্রিপ্টোকারেন্সি, জুয়া, ক্যাসিনো, বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন, শেয়ারবাজারে লেনদেন ও মাল্টি-লেভেল মার্কেটিংসহ বিভিন্ন আর্থিক ও জল্পনামূলক কর্মকাণ্ডে ডিওবি ব্যবহার নিষিদ্ধ।

বাংলাদেশে ২০১৮ সালে ডিওবি চালুর সময় মাসিক ব্যয়ের সীমা ছিল ৬০০ টাকা এবং বার্ষিক সীমা ৩ হাজার টাকা। পরে ধাপে ধাপে এ সীমা বাড়ানো হয়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সাময়িকভাবে মাসিক সীমা ২ হাজার এবং বার্ষিক সীমা ২০ হাজার টাকা করা হয়।

বিটিআরসি জানিয়েছে, ডিওবির মাধ্যমে কেনা ডিজিটাল পণ্য ও সেবা গ্রাহকের কাছে যথাযথভাবে পৌঁছানো এবং গ্রাহক সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে অপারেটরদের। একই সঙ্গে ফেরত ও অর্থ ফেরতের নীতিও প্রণয়ন করতে হবে। ডিওবি কার্যক্রম বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনের আওতায় থাকবে।

এমসিএইচ
আরও পড়ুন