কর্মী কমিয়ে এআইয়ে ঝুঁকছে শপিফাই, কতটা সফল কৌশল?

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০৮ এএম

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইকে ব্যবসার কেন্দ্রীয় কৌশলে পরিণত করেছে ই-কমার্স প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান শপিফাই। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা টোবিয়াস লুটকে কোম্পানির অভ্যন্তরীণ কাজের পদ্ধতিতেও এআই ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছেন। এখন প্রশ্ন, এই ‘অল-ইন’ কৌশলটি কতটা সফল হচ্ছে?

২০২৩ সালে শপিফাই ‘সাইডকিক’ নামে এআই সহকারী চালু করে। এর মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা তাদের অনলাইন স্টোর পরিচালনা, তথ্য বিশ্লেষণসহ বিভিন্ন কাজে এআইয়ের সহায়তা নিতে পারেন। পরে প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের কর্মীদের কাজের ক্ষেত্রেও এআই ব্যবহারে জোরালো নীতি গ্রহণ করে। কর্মীদের পারফরম্যান্স মূল্যায়নে এআই ব্যবহারের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং নতুন কোনো প্রকল্পের প্রাথমিক পর্যায়ে এআই-নির্ভর কাজকে উৎসাহিত করা হয়। এমনকি নতুন কর্মী নিয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট কাজটি এআই দিয়ে করা সম্ভব কি না, সেটিও বিবেচনায় নেওয়ার নিয়ম করা হয়।

এই নীতির ফলে শপিফাইয়ের কর্মীসংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২২ সালের শেষ দিকে প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ১১ হাজার ৬০০ কর্মী ছিল। গত বছরের শেষে সেই সংখ্যা নেমে আসে প্রায় ৭ হাজার ৬০০-তে। একই সময়ে কোম্পানির আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৩ সালে শপিফাইয়ের আয় ছিল প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার; চলতি বছর তা ১৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি হতে পারে বলে বিশ্লেষকেরা ধারণা করছেন।

তবে শপিফাইয়ের শেয়ারবাজারের চিত্র এতটা ইতিবাচক নয়। চলতি বছরে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দাম ১৫ শতাংশের বেশি কমেছে। ফলে এআইনির্ভর ব্যবসায়িক রূপান্তর এখনো বিনিয়োগকারীদের কাছে পুরোপুরি সাফল্যের নিশ্চয়তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে না।

শপিফাইয়ের পরবর্তী বড় লক্ষ্য আরও উচ্চাভিলাষী—‘এজেন্টিক কমার্স’। এই ব্যবস্থায় মানুষ নিজে অনলাইনে পণ্য খোঁজার পরিবর্তে এআই এজেন্ট তার হয়ে পণ্য খুঁজে বের করবে, তুলনা করবে এবং উপযুক্ত পণ্য সুপারিশ করবে।

এই পরিবর্তনের কেন্দ্রস্থলে থাকতে শপিফাই তাদের ব্যবসায়ীদের পণ্যের বিশাল ক্যাটালগকে এআই ডেভেলপারদের জন্য সহজে ব্যবহারযোগ্য করে তুলছে। ওপেনএআই, অ্যানথ্রপিকসহ বিভিন্ন এআই প্রতিষ্ঠান যাতে শপিফাইয়ের ব্যবসায়ীদের পণ্য তাদের এআইভিত্তিক সুপারিশ ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করতে পারে, সেই লক্ষ্যেই এগোচ্ছে কোম্পানিটি।

এরই মধ্যে প্রাথমিক ফলাফলও পাওয়া যাচ্ছে। শপিফাইয়ের প্রেসিডেন্ট হার্লি ফিনকেলস্টেইন জানিয়েছেন, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে এআইয়ের মাধ্যমে শপিফাইয়ের স্টোরগুলোতে আসা ট্রাফিক এবং অর্ডার—দুটিই আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় তিন গুণ হয়েছে। যদিও এটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ের প্রবণতা এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক ফলাফল সম্পর্কে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সময় আসেনি।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী লুটকের ধারণা, এআই কর্মীদের সক্ষমতার বিকল্প না হয়ে তাদের ‘ডিজিটাল সহকারী’ বা সৃজনশীলতার সম্প্রসারণ হিসেবে কাজ করবে। শপিফাইয়ের অভ্যন্তরীণ কাজের গতি ও পণ্যের উন্নয়নে এআই ব্যবহারের প্রভাব ইতোমধ্যে দৃশ্যমান বলেও তিনি মনে করেন।

তবে শপিফাইয়ের অভিজ্ঞতা একই সঙ্গে একটি বড় প্রশ্নও সামনে আনছে—এআই দিয়ে কর্মীসংখ্যা কমানো এবং উৎপাদনশীলতা বাড়ানো কি দীর্ঘমেয়াদে টেকসই ব্যবসায়িক সুবিধা তৈরি করতে পারবে? নাকি এআইয়ের সম্ভাবনা নিয়ে অতিরিক্ত প্রত্যাশা শেষ পর্যন্ত বিনিয়োগকারীদের হতাশ করবে?

শপিফাই তাই এখন প্রযুক্তি খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাক্ষেত্র। এআইকে শুধু একটি নতুন প্রযুক্তি হিসেবে গ্রহণ না করে পুরো প্রতিষ্ঠানের কাজের ধরন পাল্টে দেওয়ার কৌশল কতটা কার্যকর—তার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে উঠছে কানাডাভিত্তিক এই ই-কমার্স প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি।

এমইউ
আরও পড়ুন